হেলমেট পরা, চুরির বর্ণনা, নারীর আইনি সহায়তা নিয়ে কনটেন্ট বানাচ্ছে পুলিশ, নির্দেশিকা মানা হচ্ছে না
· Prothom Alo
রাস্তায় পুলিশের অভিযান চলছে। লাল রঙের স্কুটি চালিয়ে যাওয়া এক নারীকে হাতের ইশারা দিয়ে থামানো হলো। এরপর দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীর কাছে গিয়ে বললেন, ‘কী দিদি, বাইক তো ভালো চালান। মাথার হেলমেট কোথায়। ওটাও তো গুরুত্বপূর্ণ।’
Visit fish-roadgame.online for more information.
চালক নারী উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এরই মধ্যে পুলিশের কর্মকর্তা বলেন, ‘যখন বাসা থেকে বের হয়েছেন, দাদায় কিছু বলে নাই? দাদার তো হেলমেটটা মাথায় পরাই দেওয়া উচিত ছিল।’
পুলিশ ও স্কুটিচালক নারীর কথোপকথনের ১ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের ভিডিও গত ২৬ আগস্ট ‘ফোর্স–৩৬০ বাই এমএইস নাইম’ নামক একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি ১৬ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। মন্তব্য করেছেন ১ হাজার জনের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী এবং প্রতিক্রিয়া বা রিঅ্যাকশন এসেছে প্রায় ৫৫ হাজার।
ভিডিওতে যে পুলিশ কর্মকর্তা স্কুটিচালক নারীর সঙ্গে কথা বলছিলেন, তিনি সার্জেন্ট এম এইচ নাইম। ভোলার চরফ্যাশনে কর্মরত। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে ভিডিও তৈরি করে তিনি ফেসবুকে ছাড়েন। যে ভিডিওগুলোতে সমাজে সচেতনতা তৈরি হবে এবং সম্মানহানী হবে না, এমন ভিডিওগুলো ফেসবুকে ছাড়েন। টাকা আয়ের জন্য ছাড়েন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা কামানোর জন্য হলে আরও অনেক উপায় ছিল। এটা শুধু সচেতনতার জন্য তৈরি করা হয়।
পুলিশ ও স্কুটিচালক নারীর কথোপকথনের ১ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের ভিডিও গত ২৬ আগস্ট ‘ফোর্স–৩৬০ বাই এমএইস নাইম’ নামক একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি ১৬ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। মন্তব্য করেছেন ১ হাজার জনের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী এবং প্রতিক্রিয়া বা রিঅ্যাকশন এসেছে প্রায় ৫৫ হাজার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন কনটেন্ট বা আধেয় হরহামেশাই পাওয়া যাচ্ছে। শুধু ফেসবুক নয়, ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও লাইকির মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতেও এমন ভিডিও প্রচুর পাওয়া যায়। দেখা যাচ্ছে, পুলিশ কর্মকর্তারাই পরিণত হয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটরে।
ফেসবুকে ১০৭টি অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়া গেছে, যেগুলো পুলিশ কর্মকর্তারা চালান। ভিডিওগুলো লাখ লাখ ভিউ হয়। সেখান থেকে আয়ের সুযোগ রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশ সদস্যরা চাইলে কি তাঁদের অভিযানের ভিডিও ধারণ করে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রচার করতে পারেন?
বিশ্লেষকেরা বলছেন, অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি ব৵বস্থা নেওয়া পুলিশের কাজ। তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা অথবা ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করা পুলিশের কাজ নয়। অন্যদিকে সচেতন করার চেয়ে খ্যাতি অর্জনের চেষ্টাই বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে মানুষের প্রাইভেসি বা গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মী ও গবেষক রেজাউর রহমান লেনিন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ তাদের অভিযানের সময় তদন্তের স্বার্থে ভিডিও ধারণ করতে পারে। কিন্তু সেই ভিডিও শুধু তদন্তকাজেই ব্যবহার করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় তদন্তের বাইরে গিয়ে মামলা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় সেসব ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়া হয়। আবার অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়া বা ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা নিঃসন্দেহে নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের লঙ্ঘন।
শুধু ফেসবুক নয়, ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও লাইকির মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতেও এমন ভিডিও প্রচুর পাওয়া যায়। দেখা যাচ্ছে, পুলিশ কর্মকর্তারাই পরিণত হয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটরে।
তাঁরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর
‘ওসি নুর নবী ফ্যানস’ নামের একটি পেজের এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে হাতকড়া লাগানো এক তরুণ দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর পাশে এক পুলিশ সদস্য ওই তরুণকে ক্যামেরার সামনে তাকাতে বলছেন এবং তাঁর নাম–পরিচয় জিজ্ঞেস করছেন।
ভিডিওর একপর্যায়ে আরও দেখা যায়, ওই তরুণ কীভাবে চুরি করেছেন এবং তাঁকে কীভাবে আটক করা হয়েছে তার বর্ণনা দিচ্ছেন ওই পুলিশ সদস্য। অপরাধীকে ক্যামেরার সামনে আনা যায় না। এ কারণে পুলিশ এখন বিজ্ঞপ্তিতে আসামির মুখমণ্ডল অস্পষ্ট করে দেয়।
ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম নুর নবী। তিনি দিনাজপুর জেলার কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। অবশ্য পেজ চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওসি নুর নবী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই পেজ আমি চালাই না। কে না কে খুলে চালাচ্ছে। পেজে ফ্যানস লেখা আছে। আমার হলে তো ফ্যানস লেখা থাকত না।’
থানার ওসির নাম নিয়ে পেজ চালানো হচ্ছে, বিষয়টি আমলে নেওয়া উচিত ছিল কি না, এমন প্রশ্নে নুর নবী বলেন, ‘নুর নবী তো আমি একা না। আরও নুর নবী থাকতে পারে।’
অবশ্য দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা–পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওসি নুর নবী ফ্যানস নামের পেজটি ওসি নিজেই চালান এবং পুলিশ সদস্যদের দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন।
দিনাজপুর জেলার কোতোয়ালি থানার ওসি নুর নবীওই পেজ আমি চালাই না। কে না কে খুলে চালাচ্ছে। পেজে ফ্যানস লেখা আছে। আমার হলে তো ফ্যানস লেখা থাকত না।প্রথম আলো যে ১০৭টি পেজ খুঁজে পেয়েছে, সেগুলোর একটি ক্রমতালিকা করা হয়েছে অনুসারী সংখ্যার ভিত্তিতে। শহীদুল ইসলাম নামে অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১৬ লাখ, শামীম হাসান নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১৬ লাখ, সুজন শ্রাবণ নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১৩ লাখ, নাইমুর বিপি ০৩ নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১০ লাখ, সার্জেন্ট আনিসুর রহমান (আনিসুর রহমান) নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১০ লাখ, এশা রহমান নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখ।
এ ছাড়া অলক দের (অলক কুমার দে পিপিএম) অনুসারী ৮ লাখ ২২ হাজার, মুখলেচুর রহমানের অনুসারী ৭ লাখ ৪৯ হাজার, আজাদ বিপি নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ৬ লাখ ৪৭ হাজার, এমডি মশিউর রহমান (মশিউর ট্রাফিক অ্যান্ড ট্রাভেল) নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ৫ লাখ ৯৫ হাজার। শিমুল ভাই নামের অ্যাকাউন্টের ৫ লাখ ২৬ হাজার, মাসুদ আলম ফ্যান নামের পেজের অনুসারী ৪ লাখ ৬৪ হাজার এবং সঞ্জয় গোস্বামী (নিলয় হাবি) নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ৩ লাখ ৯২ হাজার।
শহীদুল ইসলাম নামে অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১৬ লাখ, শামীম হাসান নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১৬ লাখ, সুজন শ্রাবণ নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১৩ লাখ, নাইমুর বিপি ০৩ নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১০ লাখ, সার্জেন্ট আনিসুর রহমান (আনিসুর রহমান) নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১০ লাখ, এশা রহমান নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখ।
কেমন কনটেন্ট বানান তাঁরা
শহীদুল ইসলাম নামের একটি পেজের এক ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো রঙের বোরকা পরা এক নারী পুলিশের একজন সদস্যের কাছে আইনি সহায়তা নিতে এসেছেন।
ওই পুলিশ সদস্য ভিডিওতে বলছেন, ‘এই ছোট বোনটি অনেক বিপদে পড়ে আমার কাছে আসছে দেখা করার জন্য, একটা বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য। বোন আপনার কী সমস্যা হয়েছিল বলেন।’ এরপর ওই নারী তাঁর সমস্যার কথা বলা শুরু করেন। পুরো ভিডিওতে স্যাড ব্যাকগ্রাইন্ড মিউজিক বাজতে দেখা গেছে।
১১ সেপ্টেম্বর ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভিডিওটি ৩০ লাখ বার দেখা হয়েছে। একই পেজের আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি বাইকে করে দুই পুলিশ সদস্য ধীরে ধীরে যাচ্ছেন। এক ব্যক্তি ‘দাঁড়ান স্যার’, ‘দাঁড়ান স্যার’ বলে ছুটছেন।
নালিতাবাড়ী থানার সহকারী উপপরিদর্শক শহীদুল ইসলামসারা দিনই আমরা ইউনিফর্ম পরে থাকি। ডিউটিতে কোনো সমস্যা হয় না। কাজের ফাঁকেই করি। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি।পুলিশ সদস্য বাইক থামিয়ে জিজ্ঞেস করছেন, ‘এই কী হয়েছে, বলেন বিষয়টি।’ তখন ওই ব্যক্তি তাঁর ঘটনা বলা শুরু করেন। এভাবে চলে পুলিশ ও ওই ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথন।
ওই পুলিশ সদস্যের নাম শহীদুল ইসলাম। তিনি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। এই পেজটি তিনিই চালান। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি মূলত কোথাও ডিউটিতে গেলে চোখের সামনে কোনো কিছু পড়লে সেটি ভিডিও করি। গরিব, অসহায় মানুষের সাহায্য করি। ভিডিও দেখে অনেকে তাঁদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসবেন, এই চিন্তা থেকেই কাজগুলো করি।’
অবশ্য দেখলে বোঝা যায়, তাঁর ভিডিওর অনেকগুলো সাজানো।
ডিউটির সময় ইউনিফর্ম পরে এমন কনটেন্ট তৈরি করলে কাজে ব্যাঘাত ঘটে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সারা দিনই আমরা ইউনিফর্ম পরে থাকি। ডিউটিতে কোনো সমস্যা হয় না। কাজের ফাঁকেই করি। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি।’
নীতিমালার লঙ্ঘন
বাংলাদেশ পুলিশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০২৫ নীতিমালার ১০.১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য তাঁর অপারেশনাল কার্যক্রমের ভিডিও বা স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করতে পারবেন না। অনুচ্ছেদ ৬.৫ অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকাকে সরাসরি ‘অসদাচরণ’ এবং কর্তব্যে অবহেলা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। নির্দেশিকার ১২ নম্বর ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, এই নিয়ম অমান্য করলে তা অপেশাদার আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ
পুলিশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ভিডিও ও ছবি দেওয়ার প্রবণতা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে বেশ কিছু বিধিনিষেধ দিয়েছে। কোনো কোনো দেশে এসব নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের ঘটনায় শাস্তি দেওয়ার নজিরও রয়েছে।
যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগ তাদের ওয়েবসাইটে পুলিশ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিভাগের অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউনিফর্ম পরা নিজেদের ছবি পোস্ট করা অথবা বিভাগের অফিশিয়াল পরিচয়সূচক বিষয় যেমন ব্যাজ, প্রতীক, লোগো ইত্যাদি প্রদর্শন করা নিষেধ।
ফিলিপাইনের পুলিশ সদস্যদের ইউনিফর্ম পরে ও দায়িত্ব পালনকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের বিরুদ্ধেও নির্দেশনা রয়েছে।
২০২৬ সালের ২৩ জুন নাইজেরিয়ার পুলিশ বাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা আনিটি এদেমের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যাবল এবং প্রিমিয়াম টাইমস জানায়, পুলিশ সদস্যরা সরকারি অনুমোদন ছাড়া ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় ভিডিও তৈরি, শেয়ার করা, পুলিশের দাপ্তরিক বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা, সংবেদনশীল অভিযান–সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা কিংবা ব্যক্তিগত প্রচার, বিনোদন বা বাণিজ্যিক লাভের জন্য নিজেদের পদমর্যাদাকে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শাহাদাত বলেন, পুলিশ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা রয়েছে। এটা মেনে চলতে হয়। যদি এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, কোনো পুলিশ সদস্য সে নির্দেশনা মানছেন না, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সময়ে দেশটির পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ওলাতুঞ্জি দিসু পুলিশ কর্মকর্তাদের টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নিজেদের নাইজেরিয়া পুলিশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে কোনো কনটেন্ট তৈরি বা তা থেকে অর্থ উপার্জন করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এই নির্দেশ অমান্য করলে চাকরিচ্যুতি, পদাবনতি, বেতন বাজেয়াপ্ত এবং আইনি বিচারের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের পোশাক পরে কনটেন্ট তৈরি করে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দেওয়ার সুযোগ নেই। এটা নিয়মের ব্যত্যয়। তিনি বলেন, এ কারণে ইতিপূর্বে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।
শাহাদাত বলেন, পুলিশ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা রয়েছে। এটা মেনে চলতে হয়। যদি এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, কোনো পুলিশ সদস্য সে নির্দেশনা মানছেন না, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।