কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

· Prothom Alo

‘রূপান্তর, প্রবৃদ্ধি ও স্থায়িত্ব’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপিত হয়েছে। গত শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আধুনিক, গ্রাহককেন্দ্রিক, দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ব্যাংকটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, শেয়ারহোল্ডার, করপোরেট গ্রাহক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Visit afsport.lat for more information.

স্বাগত বক্তব্যে কমিউনিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘রূপান্তর, প্রবৃদ্ধি ও স্থায়িত্ব’ শুধু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য নয়; বরং ব্যাংকের ভবিষ্যতের কৌশলগত অঙ্গীকার। তিনি আরও বলেন, কমিউনিটি ব্যাংকের রূপান্তর শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। চিন্তাধারা, কাজের পদ্ধতি, সেবার সংস্কৃতি ও গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কমিউনিটি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে দক্ষতা ও সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবার আওতায় আনা জরুরি। ব্যাংকিংয়ের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের আস্থা অর্জন, আর সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা।

সামাজিক দায়বদ্ধতার কার্যক্রম আরও জনকল্যাণমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার কার্যক্রম যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে মানুষের বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন কমিউনিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম। তিনি বলেন, ব্যাংকের অগ্রযাত্রায় শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার দিকনির্দেশনা এবং গ্রাহক ও অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কমিউনিটি ব্যাংকের পরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অর্থ) মো. আকরাম হোসেন, বিপিএম (সেবা) ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. মোর্শেদ হাসান খান। তাঁরা সুশাসন, দায়িত্বশীল ব্যাংকিং, আর্থিক শৃঙ্খলা, গ্রাহকসেবা ও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ব্যাংকিং খাতের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।

দুটি নতুন ঋণপণ্য চালু

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংকের দুটি নতুন ঋণপণ্য—‘কমিউনিটি বাইক ঋণ’ ও ‘কমিউনিটি স্বপ্নের বাড়ি’ উদ্বোধন করা হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক থেকে পরিদর্শক ও সমমর্যাদার নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য ‘কমিউনিটি বাইক ঋণ’ চালু করা হয়েছে। এর আওতায় ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক চলাচলের প্রয়োজন মেটাতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য বিশেষ ঋণসুবিধা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে নিজস্ব বাড়ির স্বপ্নপূরণে ‘কমিউনিটি স্বপ্নের বাড়ি’ নামে আবাসন ঋণসুবিধা চালু করা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নতুন দুটি পণ্য গ্রাহকদের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক সেবা দেওয়ার উদ্যোগের অংশ।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনটি শ্রেণিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। সেরা করপোরেট গ্রাহক, সেরা শাখা বা উপশাখা এবং নির্বাচিত সেরা কর্মীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, করপোরেট গ্রাহক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাত বছরের পথচলার অর্জন ও অভিজ্ঞতা সামনে রেখে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজিয়েছে কমিউনিটি ব্যাংক। প্রযুক্তিনির্ভর, গ্রাহককেন্দ্রিক, দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মানুষের আস্থা আরও বাড়াতে চায় ব্যাংকটি। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় আরও কার্যকর অংশীদার হওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে তারা।

Read full story at source