‘ফাইয়াজের মৃত্যুর পোস্টে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে সৈকত, পরদিন আন্দোলনে গিয়ে সেও মারা যায়’
· Prothom Alo

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ফারহান ফাইয়াজের গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া নিয়ে তাঁর খালার পোস্ট দেখে মাহামুদুর রহমান সৈকত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাক্ষী সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী। সৈকতের বোন সাবরিনা জবানবন্দিতে বলেন, পরদিন আন্দোলনে গিয়ে তাঁর ভাই সৈকতও পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
Visit turconews.click for more information.
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ বুধবার এমন জবানবন্দি দেন সাবরিনা আফরোজ। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষী তিনি।
সাবরিনা আফরোজ জবানবন্দিতে বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাতে ফেসবুকে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের (সেদিন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ফারহান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান) খালার একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। সে পোস্টে লেখা ছিল ফারহান ফাইয়াজ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তা দেখে তাঁর ভাই সৈকত ইমোশনাল (আবেগপ্রবণ) হয়ে পড়েন।
পরদিন শুক্রবার (২০২৪ সালের ১৯ জুলাই) জুমার নামাজ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় তাঁর ভাই সৈকত আন্দোলনে যোগ দেন বলে জানান সাবরিনা আফরোজ। তিনি বলেন, তখন তাঁর ভাইকে তাঁর মা বারবার মুঠোফোনে কল করেন। কিন্তু তাঁর ভাই তা ধরেননি। তিনি (সাক্ষী) ফোন করলে তাঁর ভাই ধরেন। তখন তিনি ধমক দিয়ে ভাইকে বাসায় ফিরতে বলেছিলেন। একটু পরে বাসায় চলে যাবেন বলে তাঁর ভাই তাঁকে জানান।
সৈকতের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয় সেদিন বেলা ৩টা ২৬ মিনিটে উল্লেখ করে জবানবন্দিতে সাবরিনা বলেন, তাঁর ভাইকে তখন বারবার কল করছিলেন তাঁর বাবা। তখন একজন সহযোদ্ধা ফোন ধরে বলেন, ‘এই ফোনটি যার, সে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। আপনারা দ্রুত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যান, অন্যথায় লাশও পাবেন না।’
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সৈকতের লাশ সেদিন রাতে নিয়ে যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন সাবরিনা আফরোজ। তিনি বলেন, সেদিন রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের মারকাজুল ইসলামে সৈকতের লাশ গোসল করানো হয়। গোসল করিয়ে লাশ সেখানেই রেখে দেওয়া হয়। কারণ, তাঁদের বাসার নিচে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা অবস্থান করছিলেন। সেদিন রাতে কারফিউ জারি হয়। পরদিন (২০২৪ সালের ২০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে কারফিউ শিথিল হলে লাশ বাসায় আনেন। পরে মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ কবরস্থানে সৈকতের মরদেহ দাফন করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়াদ্দার, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ অনেককে দায়ী করেন সাবরিনা আফরোজ। তিনি দোষী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান।
‘ছেলে এত লম্বা না হলে হয়তো গুলিটা মাথায় লাগত না, বেঁচে যেত’এই মামলার ২৮ আসামির মধ্যে ৪ জন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন ও যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।
নানক, তাপসসহ এই মামলার ২৪ আসামি পলাতক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত।