পূজা বন্ধের হুমকি নয়, মণ্ডপের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে মিছিলটি ২০২৪ সালের
· Prothom Alo

প্রথম আলো ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি পূজা বন্ধের হুমকির মিছিল নয়। এটি ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের। ওই দিন ঢাকার উত্তরায় ঈদগাহ মাঠে দুর্গাপূজার আয়োজন না করে পূজামণ্ডপ সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মিছিল করেছিলেন।
Visit moryak.biz for more information.
‘১৩ নম্বরের মাঠে, পূজা হতে দেব না’, ‘ঈদগাহের মাঠে, পূজা হতে দেব না’, ‘মানি না, মানব না’ ইত্যাদি স্লোগানে একদল মানুষের মিছিলের ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের পূজা না করার জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’ কোথাও ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘এবার প্রকাশ্যে মিছিল বের করে হিন্দুদের পূজা করতে না দেওয়ার হুমকি দিল বাংলাদেশের ইসলামিক জেহাদিরা।’
প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক, পঞ্চম লিংক
প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত, এ রকম দাবিতে ভিডিওটি ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৪০টি পেজ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘জয় সনাতন’ নামের একটি পেজ থেকে প্রকাশিত ভিডিওটি ৭ লাখ ১৩ হাজারবার দেখা হয়েছে। এতে প্রতিক্রিয়া পড়েছে ১৬ হাজারের বেশি, শেয়ার হয়েছে ২ হাজার ২০০ বার এবং মন্তব্য এসেছে প্রায় ৪ হাজার।
লিংক: এখানে
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিকে সাম্প্রতিক ভেবে সুধাময় বিশ্বাস নামের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে মন্তব্যের ঘরে লেখা হয়েছে, ‘ধর্ম যার যার, অধিকার সবার। তাদের ধর্মকে সম্মান করি, আমার ধর্মীয় অধিকারকেও সম্মান করতে হবে। পূজা বন্ধ করার হুমকি দিয়ে ভয় দেখানো যাবে না। অন্যায় হলে আমরা শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ করব, প্রশ্ন করব এবং নিজেদের অধিকার নিয়ে দৃঢ়ভাবে কথা বলব।’
শেখ সেলিম নামের একটি প্রোফাইল থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, ‘আমরা মুসলিম বিশ্বাস অনুযায়ী তাই-ই করব, কিন্তু অন্য ধর্ম পালনে আমরা বাধা দিবো কেন? আর আমাদের ঈদগাহ হলে এখানে পূজা হবে কেন? যার যার ধর্ম সে তার অবস্থান থেকে পালন করলে আমরা বাধা দিবো কেন? আমার নবীর শিক্ষা কি তা?’
তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি পুরোনো, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের। ওই দিন ঢাকার উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ঈদগাহ মাঠে দুর্গাপূজার আয়োজন না করে অন্য স্থানে পূজামণ্ডপ সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মিছিল করেছিলেন। আলোচিত ভিডিওটি ওই মিছিলেরই।
এদিকে দুই বছরের পুরোনো মিছিলের ভিডিওকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে প্রচার করে হিন্দু সম্প্রদায়কে পূজা করতে না দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে ভিডিওটির সময় ও ঘটনার প্রেক্ষাপট আড়াল করা হয়েছে।
আলোচিত ভিডিওটি যাচাইয়ে ফেসবুকে একাধিক পেজ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইলে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একই ঘটনার ভিডিও পাওয়া যায়। এ ধরনের একটি ভিডিওতে থাকা মিছিলের দৃশ্যের সঙ্গে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির মিল রয়েছে।
২০২৪ সালে প্রকাশিত এসব ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের কল্যাণ সমিতির মাঠে পূজার আয়োজন না করার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মিছিল করেছেন।
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে প্রকাশিত একাধিক ভিডিও পাওয়া যায়। যেগুলোতে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর ঈদের জামাতের মাঠে ‘পূজা আয়োজন’ না করার দাবিতে এলাকাবাসীর মিছিল ও সমাবেশের কথা উল্লেখ রয়েছে।
ভিডিওটির বর্ণনায় বলা হয়, ঈদ জামাতের মাঠে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজার আয়োজন বন্ধে এলাকাবাসীর মিছিল। এলাকাবাসীর দাবি, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া স্থানেই হোক পূজার আয়োজন।
২০২৪ সালে উত্তরায় কী ঘটেছিল
ওই ঘটনা নিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওই বছর দুর্গাপূজা আয়োজনের স্থান নিয়ে ঢাকার উত্তরায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে দুর্গাপূজা আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে সেখানে পূজামণ্ডপ নির্মাণ না করার দাবিতে স্থানীয় লোকজন মানববন্ধন ও মিছিল করেন। পরে ১৩ নম্বর সেক্টরের ঈদগাহ মাঠে পূজার আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ওই মাঠেও পূজার আয়োজন না করার দাবিতে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা মানববন্ধন ও মিছিল করেন।
এ পরিস্থিতিতে আলোচনার ভিত্তিতে পূজার স্থান নির্ধারণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা ও পূজা উদ্যাপন কমিটির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বৈঠকের মধ্য দিয়ে বিষয়টির সমাধান করা হয়। বৈঠকে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণিতে (মুগ্ধ চত্বর) দুর্গাপূজা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। সেখানেই দুর্গাপূজা হয়েছিল।