শুটিংয়ে নেকড়ের আক্রমণ! মাইনাস ৪০ ডিগ্রিতে নায়িকার সঙ্গে কী ঘটেছিল

· Prothom Alo

একদিকে নেকড়ের আক্রমণের ভয়। অন্যদিকে মাইনাস ৪০ ডিগ্রিতে শুটিং। এমনকি শুটিং শেষে থাকার মতো কোনো তেমন ঘরও ছিল না। ছিল না গরম পানির ব্যবস্থা। এই নায়িকাকে পাঁচ দিন গোসল না করেই থাকতে হয়েছিল। এমন ঘটনা ঘটেছিল ‘আনা কারেনিনা’ সিনেমার শুটিংয়ে অভিনেত্রী অ্যালিসিয়া ভিকান্দরের সঙ্গে। আজ অভিনেত্রীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে বারবারই তিনি ভয়ানক এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন।

সিনেমাটির শুটিং হয়েছিল রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের বাইরে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে। বলা যায় প্রত্যন্ত এক গ্রামে। সেখানে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। জো রাইট পরিচালিত ২০১২ সালের ‘আনা কারেনিনা’ সিনেমায় কিটির চরিত্রে অভিনয় করেন ভিকান্দর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কিরা নাইটলি, জুডি ল ও ডমহল গ্লিসন। সিনেমাটির বেশির ভাগ দৃশ্য ইংল্যান্ডের শেপারটন স্টুডিওতে ধারণ করা হলেও রাশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শীতকালীন দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল।

Visit esporist.org for more information.

‘আনা কারেনিনা’ সিনেমায় অ্যারন টেলর-জনসন ও অ্যালিসিয়া ভিকান্দর। আইএমডিবি

মাইনাস ৪০ ডিগ্রিতে পাঁচ দিন
সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে আরও উত্তরে যেতে হয়েছিল শুটিং ইউনিটকে। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিকান্দরের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘দীর্ঘ ট্রেনযাত্রার পর কয়েক ঘণ্টা বাসে এবং পরে বরফের ওপর হোভারক্রাফটে করে আমরা প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছাই। সেখানে পাঁচ দিন থাকতে হয়েছিল একটি ছোট কেবিনে। কিন্তু সেই কেবিনে ছিল না গরম পানির ব্যবস্থা। বিছানার বদলে বেঞ্চেই ঘুমাতে হয়েছিল, যা শীতের মধ্যে আরও ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি করেছিল।’

অভিজ্ঞতাটি কষ্টকর হলেও ভিকান্দর সেটিকে ভয়ংকর হিসেবে দেখেননি। বরং তাঁর কাছে এটি ছিল জীবনের অন্যতম দারুণ অ্যাডভেঞ্চার। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিজ্ঞতাকে ‘জীবনের সেরা অ্যাডভেঞ্জার’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। তবে মজা করে এ-ও বলেছিলেন, ‘এমন অভিজ্ঞতা আমি জীবনে দ্বিতীয়বার নিতে চাই না।’

‘আনা কারেনিনা’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

পাশেই ছিল নেকড়ে-ভালুকের দল
শুটিংস্থলের নিরাপত্তা নিয়েও বাড়তি সতর্কতা ছিল। ইউনিটের কল শিটে নেকড়ে সম্পর্কে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। ভিকান্দর জানান, তিনি নিজেই শুটিংয়ের পাশে নেকড়ে ও ভালুক ঘুরতে দেখেছিলেন। তাঁকে ও সহশিল্পী ডমহল গ্লিসনকে পাহারা দিতে সঙ্গে ছিলেন রুশ নিরাপত্তারক্ষীরা। এই নায়িকা বলেন, ‘শুটিংয়ের প্রয়োজনে সেখানে টিমকে পাঁচ রাত থাকতে হয়। রাতে কটেজের আশপাশে নেকড়ের ডাক শুনতাম। শুটিংয়ে এমন অভিজ্ঞতা হবে ভাবিনি। শুটিংয়ের কল শিটেও সতর্ক করে লেখা ছিল, ‘নেকড়ে থেকে সাবধান’। তারপরও একদিন দুর্ঘটনা ঘটে গেল।

রাতে নেকড়ের আক্রমণ
নেকড়ে নিয়ে সবাই সতর্ক হলেও এই নেকড়ে নিয়েই একদিন ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছিল শুটিং দলের একজন সদস্যের সঙ্গে। একজন সদস্য স্বল্প সময়ের জন্য রাতে রুমের বাইরে গেলে একদল নেকড়ে তাঁকে ঘিরে ফেলে। পরে তাঁকে চিৎকার করতে ও দরজায় আঘাত করতে শোনা যায়। নিরাপত্তারক্ষীরা নেকড়েগুলোকে সরিয়ে দেন। প্রচণ্ড ঠান্ডায় ওই দলের একজন সদস্যের কোল্ড ইনজুরিও হয়েছিল বলে ভিকান্দর পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে জানান।

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করে বারবার বিতর্কে, ৫০০ কোটি টাকার মালিক কে এই অভিনেত্রী

ঠান্ডার মধ্যেও বাস্তব অভিজ্ঞতা
সিনেমার শীতকালীন দৃশ্যগুলো ধারণ করা হয়েছিল রাশিয়ার কিঝি দ্বীপ এলাকায়। নির্মাতাদের জন্যও এটি ছিল কঠিন শুটিং। সিনেমাটির চিত্রগ্রাহক সিমাস ম্যাকগারভে পরে এই শুটিংকে তাঁর করা সবচেয়ে কঠিন শুটিংগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন। তবে ভিকান্দরের কাছে সেই কষ্টের মধ্যেও ছিল অন্য রকম আনন্দ। প্রচণ্ড ঠান্ডা, দুর্গম যাত্রা ও বন্য প্রাণীর উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ‘আনা কারেনিনা’র রাশিয়া-পর্ব তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে আছে। এই নিয়ে এই অস্কারজয়ী নায়িকা জানিয়েছিলেন, এত ঠান্ডায় শরীরের উন্মুক্ত অংশে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সমস্যা তৈরি হচ্ছিল।

অভিনেত্রী বলেন,‘ গ্লাভসের বাইরে হাত রাখলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আঙুলের স্বাভাবিক নড়াচড়া ব্যাহত হয়ে যেত। হাত নাড়াতেই পারতাম না। জানুয়ারি মাসের ওই শুটিংয়ে দিনের আলোও ছিল খুব সীমিত। সূর্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য দেখা যেত। এটি ছিল আমার জীবনের অন্যতম অসাধারণ অ্যাডভেঞ্চার।’ ভিকান্দরের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৩ অক্টোবর। তিনি ‘দ্য ড্যানিশ গার্ল’ সিনেমায় অভিনয় করে পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেত্রীর অস্কার পুরস্কার পান।

Read full story at source