ঢাকায় ছবিকেন্দ্রিক জাদুঘর ‘ফটোজিয়াম’–এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
· Prothom Alo

বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘ফটোজিয়াম ফাউন্ডেশন’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। আজ শনিবার ঢাকায় ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের প্রথম সভার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। উদ্যোক্তাদের দাবি, এটি হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ছবিকেন্দ্রিক জাদুঘর।
Visit mwafrika.life for more information.
বাংলাদেশের পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির জনক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত আলোকচিত্রশিল্পী নাসির আলী মামুন এ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি আজীবন সভাপতি হিসেবে ট্রাস্টি বোর্ডের নেতৃত্ব দেবেন। ক্রাউড ফান্ডিং বা গণ–অর্থায়নের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকায় এ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি আলোকচিত্র কখনো শুধু একটি ছবি নয়; এর মধ্যে মানুষের জীবন, বিশেষ সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ঐতিহাসিক ঘটনা সংরক্ষিত থাকে। আলোকচিত্রকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে সংরক্ষণ করাই ফটোজিয়ামের অন্যতম উদ্দেশ্য। এটিকে কোনো ব্যক্তিগত আলোকচিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং মানুষ, সময় ও ইতিহাসকে সংরক্ষণের একটি জনকল্যাণমূলক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ফটোজিয়ামের স্থায়ী সংগ্রহ ও প্রদর্শনীর পরিকল্পনায় থাকবে বাংলাদেশ ও বিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বদের বাছাই করা পোর্ট্রেট, স্বাক্ষর-অটোগ্রাফ, পাণ্ডুলিপি, ডায়েরি, চিঠিপত্র ও অনন্য সামগ্রী, বিশিষ্টজনদের আঁকা চিত্রকর্ম ও আত্মপ্রতিকৃতি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাতা নাসির আলী মামুনের দীর্ঘ ছয় দশকের সংগ্রহের অপ্রকাশিত অডিও-ভিজ্যুয়াল উপাদান, জিলেটিন সিলভার প্রিন্ট ও বিভিন্ন দুর্লভ নেগেটিভ এখানে আধুনিক কিউরেটেড পদ্ধতিতে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হবে।
৯ সদস্যবিশিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি নাসির আলী মামুন ছাড়াও অন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন সাধারণ সম্পাদক সমাজসেবক মীর মঈনুল ওমর এবং কোষাধ্যক্ষ সমাজসেবক কে এম হারিস আদিল।
বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক, কবি বিমল গুহ, সাংবাদিক ও লেখক মোহাম্মদ আবদুল হাই সিদ্দিক, গবেষক ও লোকবিজ্ঞানী সাইমন জাকারিয়া, গবেষক ও প্রাবন্ধিক কুদরত-ই-হুদা এবং প্রকৌশলী ফকির মোহাম্মদ আবদুল মান্নান।
ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশ ও বিদেশের সংস্কৃতিমান, উদ্যোগী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ছবিকেন্দ্রিক জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠায় আর্থিক সহায়তাসহ প্রত্যক্ষ সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।