‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’—বলা পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার
· Prothom Alo

‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’—বলা হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার মধ্যরাতে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়। আজ মঙ্গলবার তাঁকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে যুক্ত করা হয়েছে।
Visit freshyourfeel.org for more information.
সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তে গিয়ে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে ইলিয়াস হোসাইন এ বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় এক ব্যক্তি মুঠোফোনে তাঁর ওই বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে ওই দিন রাতে প্রথম আলোয় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যইভিডিওতে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! কথা বুঝছ না? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না, আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইব নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানীগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তে সেখানে গিয়েছিলেন এএসআই ইলিয়াস হোসাইন। ওই সময় উপস্থিত লোকজনের সামনে তিনি এ কথা বলেন।
এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের টেকারঘাট গ্রামে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা একটি মামলার তদন্তের সময়ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ আছে, তিনি মামলার বিবাদীপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বাদীকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন এবং ভয়ভীতি দেখান।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম তাঁর এলাকার ‘বড় ভাই’—এমন পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন পেশাগত কাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাইফুল ইসলাম, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাএ ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে জানান, এ ধরনের ভিডিও প্রচারের কারণে সোমবার রাতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ওই এএসআইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করেন। পাশাপাশি এ ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।