ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

· Prothom Alo

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ ও পরিচয় মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।’ তিনি বলেছেন, ‘দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

Visit asg-reflektory.pl for more information.

ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপ–প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৭ অক্টোবর ২০২৬

সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। প্রতিনিধিরা বলেন, ‘সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়েছে। মতবিনিময়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবিদাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।’

প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বলেন, সরকার সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সর্বোচ্চ করার চেষ্টা করব। আপনাদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’

এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।

উপ–প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।

এ সময় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাঁদের ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

পরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে পাঁচ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে তিন কোটি টাকা বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।

হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুর্গাপূজার জন্য চার কোটি টাকা অনুদান চাইলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় তাঁদের পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন।

অন্যদিকে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুই কোটি টাকার অনুদান চাইলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় তাঁদের তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেন।

বরাদ্দের অর্থ হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা সরাসরি তাঁদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বরাদ্দের অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য সুবর্ণা ঠাকুর শিকদার, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহসভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ ওঁরাও, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Read full story at source