পটুয়াখালীতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

· Prothom Alo

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সমাজে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষার নতুন প্রত্যাশা তৈরি হলেও মাঠপর্যায়ে দলীয় পরিচয়ের আড়ালে ক্ষমতার অপব্যবহারের যে চিত্র ফুটে উঠছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পটুয়াখালীর গলাচিপায় বন বিভাগের প্রায় ১০ থেকে ১১ বছরের পুরোনো ম্যানগ্রোভ বন কেটে প্রায় ২০০ একর জমি দখলের ঘটনা কেবল চরম অরাজকতাই প্রকাশ করে না, বরং দক্ষিণ উপকূলের সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর এক বিরাট চাবুক হানে। স্থানীয় বিএনপি নেত্রীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে এক্সক্যাভেটর দিয়ে পাহাড় বা মাটি কেটে বাঁধ তৈরি করা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়ার এই দুঃসাহসিকতা প্রমাণ করে যে দলীয় ক্ষমতার বাহু প্রসারিত করে অপরাধ করার পুরোনো সংস্কৃতি এতটুকু বদলায়নি।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

গলাচিপার চরবিশ্বাসে যে বিপুল বনাঞ্চল ধ্বংস করে তরমুজখেত প্রস্তুত করার চেষ্টা চলছে, তার সুদূরপ্রসারী ক্ষতি অপূরণীয়। কেওড়া, শৈলা, গেওয়া ও বাইনগাছে সমৃদ্ধ এই ম্যানগ্রোভ বন কেবল পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করে না, উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক রক্ষা ঢাল হিসেবেও কাজ করে। অথচ ব্যক্তিস্বার্থ ও বাণিজ্যিক লাভের আশায় আনুমানিক ১০ লাখ টাকার পাঁচ শতাধিক গাছ কেটে যে মাটি কাটা হয়েছে, তাতে সেই সুরক্ষাবলয়ই আজ হুমকির মুখে পড়েছে।

এ ঘটনায় আরও হতাশাজনক দিক হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। সরকারি কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে বাধা দিতে গিয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার পরও মামলা না করে কেবল একটি সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) বিষয়টি আটকে রাখা প্রশাসনিক দুর্বলতারই নামান্তর। ‘ক্ষমতাসীন’ বা প্রভাবশালীদের ছায়ায় থাকা ব্যক্তিদের প্রতি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের এই নমনীয় মনোভাব নিশ্চিতভাবেই অপরাধীদের উৎসাহিত করবে। আইনের চোখে অপরাধী শুধুই অপরাধী; তার দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রভাব কখনোই বিচারে ঢাল হতে পারে না।

দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ুঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে উপকূলীয় বন সংরক্ষণ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তারই অংশ। অবিলম্বে গলাচিপার এই জমি দখল ও ম্যানগ্রোভ বন নিধন পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং বেদখল হওয়া বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির দলীয় হাইকমান্ডেরও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া জরুরি, যাতে কোনো নেতা বা তাঁর আত্মীয়স্বজন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও সরকারি জমি জবরদখল করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে। পরিবেশ বিধ্বংসী এই ক্ষমতার দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে উপকূলে দুর্যোগের ভয়াবহতা মোকাবিলা করা অদূর ভবিষ্যতে আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

Read full story at source