হ্যাকাররা কীভাবে স্মার্ট ফ্রিজ হ্যাক করেছিলেন
· Prothom Alo

সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রায় ৭০০টি সুপারমার্কেটে এক অভূতপূর্ব বিপর্যয় ঘটে। শত শত ডিপফ্রিজের বরফ গলে ভেসে যায় মেঝে। এতে নষ্ট হয় বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য। এমনকি তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে কোথাও কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। এই সাইবার হামলায় এক কোটি ইউরোর ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগতভাবে কীভাবে সম্ভব হলো এই হামলা?
আধুনিক সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেশনের ব্যবস্থা বা ফ্রিজগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন কন্ট্রোলারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এতে প্রযুক্তিবিদেরা দূর থেকেই ইন্টারনেটের সাহায্যে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
Visit afrikasportnews.co.za for more information.
ফরাসি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এএনএসএসআই জানিয়েছে, হ্যাকাররা মূলত ড্যানফস ও কোপল্যান্ডের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ সফটওয়্যারচালিত কন্ট্রোলারগুলোকে নিশানা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কিছু যন্ত্রের নিরাপত্তা হালনাগাদ না থাকায় এবং সিস্টেমগুলো ইন্টারনেটে অরক্ষিতভাবে উন্মুক্ত রাখায় বড় ধরনের নিরাপত্তাত্রুটি তৈরি হয়। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা দূর থেকেই ফ্রিজগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সাধারণ পাসওয়ার্ড যাচাইয়ের প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ফ্রিজে থাকা স্বয়ংক্রিয় ‘ডিফ্রস্ট’ বা বরফ গলানোর সুবিধাটি চালু করে দেওয়া হয়। তাপমাত্রা বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা তুলে নেওয়া হয়। ফলে সারা রাত ধরে ফ্রিজগুলোর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে
পৌঁছে যায় এবং জমাটবদ্ধ খাবার গলে নষ্ট হতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো জটিল কোড ব্যবহার না করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা সাইবার নিরাপত্তার দিক থেকে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, ফ্রান্সের এই ঘটনা পুরো বিশ্বের জন্যই এক বড় সতর্কবার্তা। সূত্র: সিএনএন
আহসান হাবীব
টেকবার্তার সঙ্গে যোগাযোগ: [email protected]