কলাবাগানে ককটেল বিস্ফোরণ, উদ্ধার ১৩ ককটেল, গ্রেপ্তার আওয়ামী যুবলীগের চার নেতা–কর্মী
· Prothom Alo

রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের চার নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল এবং পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে আরও ১০টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন আওয়ামী লীগের ও একজন যুবলীগের কর্মী।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শামিনুর রহমান (৫৩), তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের নেতা কামরুন্নাহার লিপি (৫০) এবং যুবলীগের কর্মী মো. নাজমুল হাসান (৪৯) ও মো. বিল্লাল হোসেন (৪৫)।
Visit playerbros.org for more information.
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ বেলা সোয়া ১২টার দিকে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের মাঠসংলগ্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১০ থেকে ১৫ জন কর্মী ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেলে এসে ব্যানার প্রদর্শন করেন। এ সময় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাঁরা আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালান। বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণের আওয়াজ পেয়ে ধানমন্ডি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দুর্বৃত্তরা তাঁকেও লক্ষ্য করে ককটেল ছুড়লে তিনি কৌশলে নিজেকে রক্ষা করেন এবং নাজমুল ও বিল্লালকে আটক করেন। অন্যরা পালিয়ে যাওয়ার সময় কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডের পদচারী–সেতুর নিচে বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনে থেকে শামিনুর ও কামরুন্নাহারকে গ্রেপ্তার করে কলাবাগান থানা–পুলিশ।
কলাবাগান থানার ওসি মো. ফজলে আশিক প্রথম আলোকে বলেন, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পদচারী–সেতুর পূর্ব পাশের রাস্তায় তিনটি ককটেল ছোড়া হয়। সেগুলো বিস্ফোরিত হয়নি। তবে পশ্চিম পাশের রাস্তায় ছোড়া একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে কেউ হতাহত হননি।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি তাজা ককটেল উদ্ধার করে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে আরও ১০টিসহ সর্বমোট ১৩টি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ১৩টি ককটেলই ইতিমধ্যে নিষ্ক্রিয় করেছে ডিএমপির বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ দল।
চারটি ককটেলসহ গ্রেপ্তার ২
এর আগে আজ সকাল সোয়া সাতটার দিকে রাজধানীর মগবাজারের নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলির একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে জাহিদুল ইসলাম ওরফে অনিক (২১) এবং শিহাব হোসেন ওরফে অমিকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চারটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপি জানায়, গত শুক্রবার রাতে রমনা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই ঘটনায় রমনা মডেল থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই মামলার আসামি জাহিদুল ও শিহাবের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর জেরে সকালে নয়াটোলার চেয়ারম্যান গলির ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে অনিক ও শিহাবকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁদের কাছ থেকে চারটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। পরে ডিএমপির বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে।