সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ২১ বছরে সর্বনিম্ন ফলাফল, বেশি পাস করেছেন মেয়েরা

· Prothom Alo

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ফলাফল। বোর্ডে এবার ছেলেদের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ৫২ দশমিক ৩৮ শতাংশ মেয়ে পাস করেছেন। তবে ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ–৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন ছেলেরা।

Visit moryak.biz for more information.

আজ শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস ইয়াছমীন এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০৫ সালের পর এবার এইচএসসিতে পাসের হার ৫০ শতাংশে নেমেছে। ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৪৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৫ সালে পাসের হার নেমেছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশে। এবার পাসের হার ও জিপিএ–৫ দুটিই কমেছে। এবার ৭১ হাজার ৮৯৩ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৩৬ হাজার ৫৯৭ জন এবং জিপিএ–৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন। গত বছর ১ হাজার ৬০২ শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছিলেন।

বিভাগভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হার ও জিপিএ–৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বিজ্ঞান বিভাগ। এই বিভাগের ৬৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন এবং জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৯৮০ জন। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪৬ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ পেয়েছেন ১৭০ জন। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস করেছেন ৪৭ দশমিক ৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৫৪ জন।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস ইয়াছমীন বলেন, এবার সারা দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার ফলে গতানুগতিক প্রশ্নে পরিবর্তন এসেছে। এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে অনিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল। এর বাইরে ইংরেজি, আইসিটি, ভূগোল ও রসায়ন বিষয়ে তুলনামূলক কম পাস করেছেন। এতে ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।

পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাসের হারে এগিয়ে আছেন মেয়েরা। এবার ৪২ হাজার ৯৫৮ মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ২২ হাজার ৫০১ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। তাঁদের মধ্যে ৫৯১ জন জিপিএ–৫ পেয়েছেন।

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উল্লাস। সিলেট, ৩১ অক্টোবর

অন্যদিকে ২৮ হাজার ৯৩৫ জন ছেলে পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ১৪ হাজার ৯৬। পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। তবে ছেলেদের মধ্যে ৬১৩ জন জিপিএ–৫ পেয়েছেন। অর্থাৎ মেয়েদের তুলনায় কমসংখ্যক ছেলে পরীক্ষা দিয়েও ২২ জন বেশি জিপিএ–৫ পেয়েছেন।

এদিকে বিভাগের চার জেলার মধ্যে পাসের হার ও জিপিএ–৫ পাওয়ায় সিলেট জেলা এগিয়ে আছে। সিলেটে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৯০৩ জন। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে আছে হবিগঞ্জ। এই জেলায় পাসের হার ৪৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছেন ১০৪ জন। সুনামগঞ্জে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৪৬ জন। সবচেয়ে কম মৌলভীবাজারের পাসের হার ৪৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ পেয়েছেন ১৫১ শিক্ষার্থী।

ছয় প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সিলেট ক্যাডেট কলেজ (৫০ জন), ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল এনজিএফএফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৩১ জন), সুনামগঞ্জের আইডিয়াল ভিশন কলেজ (সাতজন), মৌলভীবাজারের শমসেরনগরের বিএএফ শাহীন কলেজ (২৩৮ জন), হবিগঞ্জের মাধবপুরের ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ (তিনজন) এবং আজমিরীগঞ্জের হাজী আবদুল হাকিম ভূঁইয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ (একজন)।

কেউ পাস করেননি তিন প্রতিষ্ঠানে

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল চারটি। কেউ পাস না করা প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো হবিগঞ্জের লাখাইয়ে মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ (দুজন), সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আলহাজ আবদুল মোতালিক হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ (১৫ জন) এবং একই জেলার দোয়ারাবাজারের মিতালি পাবলিক হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ (২১ জন)।

Read full story at source