নারীর লক্ষ্য অর্জনের পথ কী
· Prothom Alo
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য: ‘অধিকার, ন্যায্যতা ও পদক্ষেপ’ বিশ্বের সব সমাজে নারীদের যথার্থ অবস্থানের জন্য একটি জোরালো পদক্ষেপ। নারী দিবস উপলক্ষে লিখেছেন সেলিম জাহান
৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ২০২৬ সালের এ দিবসের প্রতিপাদ্য—‘অধিকার, ন্যায্যতা ও পদক্ষেপ: সব নারী ও মেয়েদের জন্য’।
Visit livefromquarantine.club for more information.
শিরোনামটি চারটি কারণে আমার দৃষ্টি কেড়েছে। প্রথমত এটির একটি লক্ষ্য আছে, যার মধ্যে বৈষম্যমূলক আইন থেকে আইনি কাঠামোকে জোরদার করার কথা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ১৯৯৫ সালের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলন ২০২৬ সালের প্রতি পাদ্যেটির একটি পটভূমি তৈরি করেছে। তৃতীয়ত, সব নারী এবং বালিকাদের বিবেচনায় নেওয়ার ফলে প্রতিপাদ্যটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক মাত্রিকতা সৃষ্টি করেছে এবং চতুর্থত, ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যটি শুধু তাত্ত্বিক বা বিশ্লেষণমূলক নয়, এর একটি অত্যন্ত বাস্তব প্রায়োগিক জোরালো পদক্ষেপমূলক দিকও আছে।
৮ মার্চ বিশ্বের সব নারী ও মেয়েরা সম-অধিকার ও ন্যায্যতার দাবি তুলবেন। ন্যায্যতা ও অধিকারের সমতা প্রতিষ্ঠা করতে তাঁরা জোর আওয়াজ তুলবেন, যাতে তাঁরা তাঁদের অধিকার ভোগ করতে পারেন। দুঃখের বিষয়, একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে দাঁড়িয়েও পৃথিবীর কোনো দেশ দাবি করতে পারে না যে আইনের নিরিখে নর-নারীর মধ্যকার সব পার্থক্যকে তারা সম্পূর্ণ দূর করতে পেরেছে।
২০২৬ সালে এসেও বৈশ্বিকভাবে আমরা দেখতে পাই যে আইনগতভাবে ছেলেরা যে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, তার মাত্র ৬৪ শতাংশ নারীরা ভোগ করেন। কাজ, অর্থ, নিরাপত্তা, সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, অবসরজীবনের প্রধানতম সব ক্ষেত্রেই বিভিন্ন দেশের প্রচলিত আইন সুনির্দিষ্টভাবে মেয়েদের প্রতি বৈরী।
ক্ষতিকর সামাজিক বিধিবিধান থেকে বৈষম্যমূলক আইন, ন্যায্যতার সব ক্ষেত্রেই নারীরা সুপ্রোথিত অন্তরায় ও বিরূপতার সন্মুখীন হন। ২০২৬ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্যটি তাই ন্যয্যতা ও সম-অধিকারের ক্ষেত্রে সব কাঠামোগত অন্তরায় ভেঙে দেওয়ার পক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলে। ইতিবাচক পদক্ষেপের মাধ্যমেই মেয়েদের অধিকারের পরিপন্থী বৈষম্যমূলক আইন, দুর্বল বিচারব্যবস্থা, ক্ষতিকর সামাজিক বিধিবিধানকে ভেঙে দেওয়া যায়।
নারীদের বিষয়ে ন্যায্যতার প্রশ্নটি যদি প্রতিষ্ঠিত না করা যায়, তাহলে অধিকারের বিষয়টি একটি অবাস্তবায়িত প্রতিশ্রুতি হয়ে দাঁড়ায় মাত্র। ন্যায্যতা বিষয়টি সম-অধিকারের ভিত্তিভূমি। ন্যায্যতা বিষয়টি একটি বিমূর্ত ধারণা নয় এটি শুধু একটি আইনগত বিষয়ও নয়, এটি একটি নৈতিকতার বিষয়, একটি আর্থসামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ও বটে।
ন্যায্যতাটি প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেই সম-অধিকারের বিষয়টি স্বীকৃতি পায়। তখন সেসব অধিকারকে সুরক্ষিত করা যায়, তাদের সামনে নিয়ে যাওয়া যায়। নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে আইন শুধু আর নথিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা বাস্তবায়িত হবে।
সম-অধিকার ও ন্যায্যতার প্রশ্নে বর্তমান বিশ্বে যে হারে অগ্রগতি হচ্ছে, তাতে নারী-পুরুষের মধ্যকার বিদ্যমান আইনগত বৈষম্য দূর করতে পৃথিবীর ২৮৬ বছর লাগবে। তেমনিভাবে বর্তমান অগ্রগতির ধারা বজায় থাকলে নারী-পুরুষের মধ্যকার অর্থনৈতিক অসমতা দূর করতে পূর্ব এশিয়ার ১১১ বছর লাগবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের লাগবে ৩৫৬ বছর। সত্যিকার অর্থে এগুলো কোনো সময়রেখা নয়, এগুলো আসলে আত্মসমর্পণের শামিল।
মেয়েদের অধিকারের ক্ষেত্রে অসমতার কারণেই বিশ্বের ১৮টি দেশে স্বামীর অনুমতি ছাড়া মেয়েরা কাজ করতে পারেন না, ৩২টি দেশে নারীদের পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া পুরুষদের থেকে ভিন্নতর। নারীর প্রতি অন্যায্যতার একটি পরাকাষ্ঠা হচ্ছে, কৃষি খাতে বেশির ভাগ কাজ মেয়েরা করলেও বৈশ্বিকভাবে মোট কৃষিজমির মাত্র ১০ শতাংশের মালিক মেয়েরা। ন্যায্যতা ও সম–অধিকার নেই বলেই বিশ্বে ১৮ বছরের নিচের ১ কোটি ৫০ লাখ মেয়েকে প্রতিবছর বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়—প্রতি ২ সেকেন্ডে একজন বালিকাবধূ।
► ক্ষতিকর সামাজিক বিধিবিধান থেকে বৈষম্যমূলক আইন, ন্যায্যতার সব ক্ষেত্রেই নারীরা সুপ্রোথিত অন্তরায় ও বিরূপতার সম্মুখীন হন।
► নারীর সপক্ষে ন্যায্যতা, সম-অধিকার বিষয়ে বাংলাদেশে অন্তত কাগজে-কলমে অঙ্গীকারের কমতি নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে বাস্তব চিত্রটি কেমন।
২.
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে যদি বাংলাদেশের দিকে দৃষ্টি ফেরাই, তাহলে দেখা যায় যে বাংলাদেশে মেয়েদের সম–অধিকারের বিষয়টি আমাদের দেশের নথি আর কাগজপত্রে সুগ্রন্থিত। বাংলাদেশের সংবিধান নারীর প্রতি ন্যায্যতা এবং তাঁদের সম–অধিকারের কথা বলে। দেশের সব কটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা নারী-পুরুষের সমতার বিষয়টি সম্পর্কে উচ্চকিত।
২০১১ সালে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণীত হয়। সে নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সালে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিহত করার জন্য জাতীয় কার্য পরিকল্পনা (২০১৩-২০১৫) গ্রহণ করা হয়। সেই ধারায় আসে ২০১৮-২০২২ সালের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তার জাতীয় কার্যপরিকল্পনা। সুতরাং নারীর সপক্ষে ন্যায্যতা, সম–অধিকার বিষয়ে বাংলাদেশে অন্তত কাগজে-কলমে অঙ্গীকারের কমতি নেই। প্রশ্ন হচ্ছে এ ক্ষেত্রে বাস্তব চিত্রটি কেমন।
বাংলাদেশের মেয়েদের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা ও সম–অধিকারের ব্যাপারটি চারটি মাত্রায় দেখা যেতে পারে—অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক। বলা প্রয়োজন, এ চারটি বলয়ের প্রতিটিতে পিতৃতান্ত্রিকতার কঠোর অনুশাসনের ফলে বাংলাদেশের মেয়েরা কখনো ন্যায্যতা ও সম–অধিকার পান না। এ দেশের মেয়েদের জীবনের নিত্যকার বাস্তবতা নির্ধারিত হয় পুরুষের মানসিকতা ও কর্মকাণ্ড দ্বারা।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বলয়ে অসম অধিকারের কারণে এ দেশের মেয়েরা বৈষম্যের শিকার হন। ধর্মীয় বিধিবিধানের কারণে বাংলাদেশের নারীদের জমি ও সম্পত্তিতে মালিকানা বড় কম। আমাদের দেশের প্রতি ৩ জন নারীর মাত্র ১ জনের ব্যাংকে কোনো লেনদেন আছে। এ দেশের কর্মক্ষম নারীদের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ নারী শ্রমবাজারে আছেন, যেখানে তুলনামূলক পুরুষের সংখ্যাটি হচ্ছে ৮১ শতাংশ। গৃহকর্মের বেশির ভাগই মেয়েরা করে থাকেন।
দেশের উচ্চ ব্যবস্থাপনা পদে নারীর অবস্থান মাত্র ১২ শতাংশ। নারীর গড় আয় পুরুষের চেয়ে ১০ শতাংশ কম। বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১০ শতাংশ বলা হয়, শিক্ষিত তরুণীদের ক্ষেত্রে তা ২২ শতাংশ। তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীর অন্তর্ভুক্তি বড় কম। বাংলাদেশের ৮৬ শতাংশ পুরুষের মুঠোফোন আছে, নারীদের ক্ষেত্রে তা ৬১ শতাংশ এবং দেশের ৪৮ শতাংশ পুরুষ যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন, সেখানে নারীদের জন্য সংশ্লিষ্ট সংখ্যাটি হচ্ছে ১৭ শতাংশ।
সামাজিক দিক থেকে মেয়েদের সম–অধিকার নানান দিক দিয়ে বিঘ্নিত হয়। যেমন বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের দুই-তৃতীয়াংশের ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। বাল্যবিবাহ মেয়েদের সক্ষমতা রুদ্ধ করে তাঁদের সুযোগকে সীমিত করে দেয়। সুতরাং একটি অসম অবস্থায় তাঁদের পড়তে হয়।
বাংলাদেশের ৭৭ শতাংশ নারী গর্ভধারণ সম্পর্কে তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, ২৩ শতাংশ নারী তাঁদের ইচ্ছেমতো সন্তান নিতে পারেননি। দেশের ১৬ শতাংশ মা তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গর্ভধারণ করেছেন। বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ নারীকে জন্মনিয়ন্ত্রণে বাধ্য করা হয়েছে।
প্রজনন সিদ্ধান্তের নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, যা ন্যায্যতা ও সমতা চেতনার পরিপন্থী। এ দেশের ৭৩ শতাংশ নারী তাঁদের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে গৃহাভ্যন্তরে পুরুষের দ্বারা সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মেয়েদের অধিকার প্রায়ই ক্ষুণ্ন হয়। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও নারীদের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে না। এ দেশের পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো চায় না যে মেয়েরা রাজনৈতিক প্রার্থী হোক।
তাই গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করলেও মাত্র ১০টি দল নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছিল। নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসন বাদ দিলে, ৩০০ সদস্যের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে মাত্র ৭ জন মহিলা সাংসদ সদস্য রয়েছেন। এ সংসদের বিরোধী দলের সত্তরোর্ধ্ব সাংসদ সদস্যদের মধ্যে কোনো মহিলা নেই।
ভোট দেওয়ার ব্যাপারেও নারী ভোটদাতাদের ক্ষেত্রে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে, মেয়েদের কোনো স্বাধীন কার্যকর ভোটাধিকার নেই। বাড়ির পুরুষেরাই বলে দেন, মেয়েরা কোন প্রার্থীকে বা কোন মার্কায় ভোট দেবেন।
সাংস্কৃতিক বলয়েও বাংলাদেশের মেয়েরা নানান বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার শিকার। দেশের শিল্প-সাহিত্যাঙ্গন পুরুষদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাঁরাই সেসব অঙ্গনে মেয়েদের অধিকার ও কর্মকাণ্ড নির্ধারণ করে থাকেন। এ অঙ্গনে মেয়েদের কার্যকর কণ্ঠস্বর অনুপস্থিত।
সেই সঙ্গে খেলার জগতে মেয়ে খেলোয়াড়েরা সমতা ভিত্তিক রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা পান না। সেই সঙ্গে রয়েছে আয় ও সুবিধার বৈষম্য। সবটা মিলিয়ে সাংস্কৃতিক জগতে বাংলাদেশের নারীরা যথাযথ ন্যায্যতা ও অধিকার ভোগ করেন না।
৩.
প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে মেয়েদের ন্যায্যতা এবং অধিকারের সমতা নিশ্চয়তার জন্য কী কী করা যেতে পারে?
বলা বাহুল্য, ন্যায্যতা ও নারীদের সম–অধিকারের ব্যাপারটি আমাদের সংবিধান–স্বীকৃত, দেশের আইনে এবং পরিকল্পনায়ও লক্ষ্য এবং নীতি হিসেবে এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টি হচ্ছে এসবের বাস্তবায়ন কী করে করা যেতে পারে? এ প্রসঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো কোথায় কোথায় নেওয়া যেতে পারে? তিন মাত্রিকতায় এ বিষয়গুলো করা প্রয়োজন—প্রচারণায়, প্রয়োগে এবং প্রতিষ্ঠানে।
ন্যায্যতা ও অধিকারের সমতা বিধানে প্রচারণার একটি বিশাল ভূমিকা আছে, কারণ এ দুই ক্ষেত্রেই সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ ও বিধিবিধান বদলাতে হবে। সচেতনতার সৃষ্টি, যথাযথ মানসিকতার গঠন ছাড়া ন্যায্যতা ও সম–অধিকারের চেতনা সমাজে প্রতিষ্ঠা করা যায় না এবং কাজটি বহুলাংশেই করতে হবে পুরুষদের মধ্যে।
সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নারীর সম–অধিকারের সপক্ষে একটি ইতিবাচক ভিত্তি তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রচারমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সামাজিক আন্দোলনের একটা বিশাল ভূমিকা রয়েছে।
প্রয়োগের ক্ষেত্রে ন্যায্যতার এবং সম–অধিকারের যেসব আইন দেশে বিদ্যমান, তার যথাযথ ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আইন ও বিচারব্যবস্থা যেন নারীর বিপক্ষ শক্তির সপক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট না হয়। মেয়েদের জন্য সুবিচার যেন আমাদের আইনি সংস্কৃতির ভিত্তি হয়।
প্রয়োগের অন্য দিক হচ্ছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। অর্থনৈতিক নীতিমালায় নারী-অবান্ধব নীতিগুলোকে পরিহার করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিতকরণের জন্য নারীদের সপক্ষে ইতিবাচক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সেটা সামাজিক সেবা, সম্পদ এবং উৎপাদন উপকরণের ক্ষেত্রে হতে পারে।
সম্পদে নারীর মালিকানা নিশ্চিত করার জন্য আইন পরিবর্তন প্রয়োজন। সেই সঙ্গে বাল্যবিবাহ ও গৃহাভ্যন্তরে সহিংসতা বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীর সম–অধিকার ও সম–অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার।
নারীর প্রতি ন্যায্যতা ও সম–অধিকারকে নিশ্চিত করতে হলে একটি সুষ্ঠু প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তার অনুঘটকের ভূমিকায় নিশ্চয়ই রাষ্ট্রযন্ত্র থাকবে। কিন্তু সেই সঙ্গে যুক্ত হবে বেসরকারি খাত, বেসরকারি সংস্থাগুলো এবং উন্নয়ন সহযোগীরা।
সরকারি সংস্থাগুলোকে নারীর প্রতি সমতাবান্ধব হওয়া প্রয়োজন। সেসব প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গি ও কাঠামো যেন নারীদের প্রতি ন্যায্যতা ও সমতার প্রতি সংবেদনশীল হয়। কথাটি বেসরকারি খাতের জন্যও সত্যি। এ খাতের কর্মকাণ্ডের নীতিমালায় যেন নারীর সম–অধিকার নিশ্চিত করা হয় এবং বৈষম্যমূলক আচরণ পরিহার করা হয়। এ প্রসঙ্গে মেয়েদের হয়রানি করা ও নির্যাতনের বিষয়টিও উল্লেখ করা প্রয়োজন।
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য—‘অধিকার, ন্যায্যতা ও পদক্ষেপ’ বিশ্বের সব সমাজে নারীদের যথার্থ অবস্থানের জন্য একটি জোরালো পদক্ষেপ। সারা পৃথিবীতে এর সপক্ষে বাস্তবোচিত প্রায়োগিক কাজের মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। বাংলাদেশও যেন সেই পথযাত্রায় একটি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে।
● সেলিম জাহান জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক
*মতামত লেখকের নিজস্ব