পুরোনো মঞ্চে কি নতুন ইতিহাস লিখতে পারবেন গ্রিজমান

· Prothom Alo

ক্যাম্প ন্যুতে তাঁর গল্পটা মধুর ছিল না।

অন্য অনেকের মতো লিওনেল মেসির ছায়াতেই ঢাকা পড়ে ছিলেন। দারুণ কিছু করে যে আলোটা নিজের ওপর নেবেন, সেটাও পারেননি। আসলে কখনোই কাতালানদের আপন হয়ে উঠতে পারেননি আঁতোয়ান গ্রিজমান। আক্ষেপ নিয়ে তাই দুই বছর পর ফিরে গিয়েছিলেন পুরোনো ঘরে—আতলেতিকো মাদ্রিদে।

Visit h-doctor.club for more information.

সেই গ্রিজমান আজ আবার ক্যাম্প ন্যুতে ফিরছেন। চিরচেনা আতলেতিকোর জার্সি গায়ে, কখনো যে দলটা তাঁকে আপন করে নিতে পারেনি সেই বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ হয়ে। মঞ্চটা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল।

মৌসুম শেষেই ফরাসি ফরোয়ার্ড পাড়ি জমাচ্ছেন আটলান্টিকের ওপারে, এমএলএসের দল অরল্যান্ডো সিটিতে। যাওয়ার আগে গ্রিজমানের একটাই স্বপ্ন—আতলেতিকোর হয়ে একটা বড় শিরোপা জিতে বিদায় নেওয়া। বার্সেলোনা–বাধা না পেরোতে পারলে সেই স্বপ্ন এখানেই শেষ।

আতলেতিকো মাদ্রিদের অনুশীলনে গ্রিজমান।

এমনিতে দিয়েগো সিমিওনের আতলেতিকো মাদ্রিদ দলটা যেন ট্র্যাজিক হিরোদের আস্তানা। ২০১৪ আর ২০১৬—দুবার ফাইনালে গিয়েও চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফিটা ছোঁয়া হয়নি তাদের। ৩৫ বছর বয়সী গ্রিজমানের শোকেসে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি আছে ঠিকই, কিন্তু ক্লাব ফুটবলের ট্রফি ক্যাবিনেট খালিই বলা যায়। ২০১৮ সালের ইউরোপা লিগ আর উয়েফা সুপার কাপ ছাড়া আতলেতিকোর হয়ে বড় কিছু জেতা হয়নি তাঁর।

লিগ জেতার আশায় বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ২০১৯ সালে। কী কপাল! জুটল বার্সার জার্সি গায়ে ২০২০ চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলে হারের লজ্জা। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়ে ২০২১ সালে আতলেতিকো লা লিগা জিতল, গ্রিজমান তখন বার্সার ড্রেসিংরুমে বসে আক্ষেপ করছেন।

অবশেষে গ্রিজমান ফিরেছিলেন সিমিওনের আশ্রয়েই। তবে এখন সময় হয়েছে সেই শিকড়ও ছেড়ে যাওয়ার। গত সপ্তাহেই বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু অরল্যান্ডো সিটিতে যাওয়ার আগে কি তাঁর হাতে একটা বড় ট্রফি উঠবে না?

২১১ গোল নিয়ে আতলেতিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। সিমিওনের কড়া শাসনে যে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হয়, তার সঙ্গে গ্রিজমান মিশিয়ে দিয়েছেন এক দারুণ নান্দনিকতা। বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক তো মুগ্ধ হয়েই বললেন, ‘গ্রিজমান এক অনন্য প্রতিভা। ও যেভাবে খেলে, অবিশ্বাস্য! মনে হয় ফুটবল খেলছে না, যেন নাচছে!’

আতলেতিকো মাদ্রিদ কোচ সিমিওনে

শেষ ষোলোর প্রথম লেগে টটেনহামকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর গ্রিজমানও বলেছিলেন, ‘আশা করি, এবার আমরা বড় কিছু একটা করতে পারব।’

এই মাঠেই ১০ বছর আগে, ২০১৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দুটি গোল করে মেসি-সুয়ারেজ-নেইমারদের বিদায় করে দিয়েছিলেন তিনি। সেই অভিযান শেষ হয়েছিল মিলানের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে।

এবার কি পুরোনো মঞ্চে নতুন ইতিহাস লিখতে পারবেন গ্রিজমান!

Read full story at source