শিখোর ‘থিঙ্ক এআই’—বাংলায় বিনা মূল্যে এআই শেখার কোর্স, সহযোগিতায় সরকার ও মেটা
· Prothom Alo
বাংলাদেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মজীবীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কে মৌলিক ও ব্যবহারিক ধারণা দিতে চালু হয়েছে ‘থিঙ্ক এআই’ কোর্স। বাংলায় তৈরি বিনা মূল্যে এআই শেখার কোর্স এটি।
Visit saltysenoritaaz.org for more information.
লাইটক্যাসল পার্টনার্সের সঙ্গে যৌথভাবে এবং মেটার সহযোগিতায় তৈরি কোর্সটি শিখোর লার্নিং প্ল্যাটফর্মে বিনা মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে কোর্সটি। চারটি লেসনে সাজানো এই কোর্সে রয়েছে এআইয়ের মৌলিক ধারণা, জেনারেটিভ এআই টুলগুলোর কার্যপদ্ধতি, দায়িত্বশীল ব্যবহারের নীতি ও বাস্তব দক্ষতা অর্জনের পথনির্দেশনা। কোর্সটি করতে কোনো পূর্ব কারিগরি অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই; মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ফ্রিল্যান্সার এবং তরুণ পেশাজীবী—সবার জন্যই এটি উন্মুক্ত।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকার রেনেসাঁ হোটেলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ৬০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। আলোচনায় তিনটি মূল লক্ষ্য সামনে উঠে আসে—বিদ্যমান শিক্ষা অবকাঠামোর মাধ্যমে কোর্সটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া, এআই সাক্ষরতা ও ডিজিটাল দক্ষতা নিয়ে ক্রস-সেক্টর সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার একটি অনুকরণযোগ্য মডেল গড়ে তোলা।
মূল বক্তব্যে শিখোর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও শাহির চৌধুরী এআইকে একটি সভ্যতাগত পরিবর্তন এবং বাংলাদেশের জন্য যুগান্তকারী সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আধুনিক ইতিহাসে এই প্রথম, ভৌগোলিক অবস্থান আর কারও ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, সরকার দেশের শিক্ষা পাঠ্যক্রমকে ডিজিটাল রূপ দিতে ও অঞ্চলভেদে শিক্ষার মানে যে বৈষম্য রয়েছে তা দূর করতে কাজ করছে—যেখানে এআই থাকবে অন্যতম মূল চালিকা শক্তি। তিনি বলেন, ‘আমরা পাঠ্যক্রমকে ডিজিটাল পাঠ্যক্রমে রূপান্তরিত করতে যাচ্ছি। ঢাকার সেরা শিক্ষকেরা যে কনটেন্টে অ্যাকসেস পাচ্ছেন, প্রত্যন্ত গ্রামেও সেই একই কনটেন্ট পৌঁছে যাবে। আমাদের ডিজিটাল ক্লাসরুম এবং “ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব” কর্মসূচিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, এআইকে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর করতে হলে সবার আগে দরকার শক্তিশালী কানেক্টিভিটি ও ডেটা অবকাঠামো, যা গড়ে তোলাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘যদি আমার কানেক্টিভিটি না থাকে, তাহলে আমার কিছুই নেই। এআই কাজ করতে হলে ডেটা থাকা অত্যন্ত জরুরি। সেই অবকাঠামো গড়ে উঠলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রংপুর আর প্যালো অল্টোর মধ্যকার দেয়াল ভেঙে যেতে শুরু করবে।’
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মেটার পাবলিক পলিসি স্ট্র্যাটেজির পরিচালক বেথ অ্যান লিম বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এআই সাক্ষরতাকে মেটা মৌলিক বিষয় হিসেবে দেখছে। তিনি বলেন, মেটায় আমরা এআই সাক্ষরতা এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে মানুষ ও সম্প্রদায়গুলো নতুন প্রযুক্তির সুযোগগুলোতে অংশ নিতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্পন্ন এআই শিক্ষা সহজলভ্য ও স্থানীয়ভাবে প্রাসঙ্গিক করতে শিখো এবং লাইটক্যাসল পার্টনার্সের পাশে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত।
সরকারের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের পাশাপাশি মেটার আঞ্চলিক পাবলিক পলিসি নেতৃত্বকে নিয়ে আয়োজিত প্যানেল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন লাইটক্যাসল পার্টনার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন ইসলাম। তিনি এআইকে বাংলাদেশ ও উন্নত বিশ্বের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনার এক সম্ভাবনাময় শক্তি হিসেবে তুলে ধরে বলেন, ‘এআই একটি ইকুয়ালাইজার হিসেবে আসছে—এটা ভেবে আমরা সত্যিই উচ্ছ্বসিত। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা একজন আর বাংলাদেশে থাকা একজনের মধ্যে যে পার্থক্য আগে ছিল, সেটা আর তেমন বড় থাকবে না।’
১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে—যাদের মধ্যে ৫ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষের বয়স ২৫-এর নিচে—সহজলভ্য, স্থানীয় ভাষায় তৈরি এআই সাক্ষরতার এই সুবিধাটি শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অর্থবহ সুযোগ এনে দিতে পারে। দেশের ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটি এবং তরুণ ডিজিটাল পেশাজীবীদের ক্রমবর্ধমান ভিত্তি বৈশ্বিক ডিজিটাল কাজের বাজারে প্রতিযোগিতায় নামছে; এআই-সংশ্লিষ্ট দক্ষতার চাহিদা যত বাড়বে, তাদের জন্য সুযোগও তত প্রসারিত হবে।
‘থিঙ্ক এআই’ একটি সূচনা মাত্র। বিনা মূল্যে, বাংলায়, পূর্ব কারিগরি অভিজ্ঞতা ছাড়াই করা যায় এমনভাবে কোর্সটি সাজানো হয়েছে যাতে এতদিন প্রযুক্তি শিক্ষায় যে প্রবেশের প্রতিবন্ধকতা ছিল, তা ভেঙে যাবে। আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকার, শিল্প খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণ এআই সাক্ষরতাকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার যৌথ আগ্রহকেই তুলে ধরেছে।
থিঙ্ক এআই কী
‘থিঙ্ক এআই’ হলো বাংলাদেশের জন্য তৈরি সম্পূর্ণ বাংলায় বিনা মূল্যে একটি এআই সাক্ষরতা কোর্স, যা শিখোর লার্নিং প্ল্যাটফর্মে চালু রয়েছে। চারটি সহজ লেসনে সাজানো ও পূর্ব কারিগরি অভিজ্ঞতা ছাড়াই অংশগ্রহণযোগ্য এই কোর্স শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, শিক্ষক এবং আজীবন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহজলভ্য শুরুর অপশন হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে। কোর্সটি তৈরি করেছে শিখো, লাইটক্যাসল পার্টনার্সের সঙ্গে যৌথভাবে এবং মেটার সহযোগিতায়।