ভালভের্দে-চুয়ামেনির বিরোধ: রিয়ালে বিতর্ক থামছেই না
· Prothom Alo

রিয়াল মাদ্রিদের সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। টানা দ্বিতীয় মৌসুম ট্রফিহীনভাবে শেষ করার পথে আছে ক্লাবটি। যার প্রভাব পড়েছে দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশেও। মৌসুমের শেষভাগে এসে উত্তেজনা এখন রীতিমতো চরমে পৌঁছেছে। দলের ভেতরের পরিবেশে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, সাম্প্রতিক নানা কার্যকলাপে তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
উত্তেজনার ধারায় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো এবার এল ক্লাসিকোর অনুশীলনে দলের দুই মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভের্দে ও অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির হাতাহাতির খবর দিয়েছে। এক ফাউলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তীব্র বাগ্বিতণ্ডা, যা দ্রুত উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রূপ নেয়।
Visit betsport.cv for more information.
এ সময় দুজনই একে অপরকে ধাক্কা দেন এবং মাঠেই তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি এ বিরোধ ভালদেবেবাসের ড্রেসিংরুম পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিব্রতকর এ ঘটনাকে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুতই তা পুরো দলের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।
এবার রিয়াল মাদ্রিদ হওয়ার অপেক্ষায় পিএসজিরিয়াল যে শিরোপা–খরায় থাকার চাপ নিতে পারছে না, এসব বিব্রতকর ঘটনাতেই তা পরিষ্কার। শুধু ভালভের্দে-চুয়ামেনির হাতাহাতিই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে, যা দলের সংহতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
খেলোয়াড়দের মধ্যে মতবিরোধ এত দূর গড়িয়েছে, অনেকে নাকি একে অপরের সঙ্গে খুব একটা কথাও বলেন না। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কোচ আলভারো আরবেলোয়ার জন্য পরিবেশ বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। অন্তত ছয়জন খেলোয়াড় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।
রিয়ালের মতো সময় ভালো যাচ্ছে না এমবাপ্পেরওএর আগে আন্তোনিও রুডিগার ও আইভারো কারেরাসের মধ্যকার বিরোধের খবরও সামনে এসেছিল। তবে কারেরাস জানিয়েছেন, রুডিগারের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এখন মিটে গেছে। পাশাপাশি ছোট ঘটনাকে বড় করে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রিয়ালে চলমান বিতর্কের মধ্যে নাম আছে কিলিয়ান এমবাপ্পেরও। চোটে ভোগার পাশাপাশি দলের ভেতরও তাঁকে নিয়ে অস্বস্তির খবর এসেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ইতালিতে তাঁর অবকাশযাপন নিয়েও চলছে সমালোচনা।
রিয়াল মাদ্রিদ কি মাস্তানতুয়োনোকে নষ্ট করে ফেলছে—আর্জেন্টিনা দলে দুশ্চিন্তাএ ঘটনায় পরিস্থিতি এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দিতে হয়েছে। পরিস্থিতি এখন এতটাই বেগতিক যে এমবাপ্পেকে রিয়াল থেকে বাদ দিতে ‘এমবাপ্পে আউট’ নামে যে পিটিশন খোলা হয়েছে, সেখানে এরই মধ্যে আড়াই কোটির বেশি লোক স্বাক্ষর করেছেন।
সব মিলিয়ে মাঠের ব্যর্থতা রিয়ালের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। পুরো মৌসুমই যেন দলটির জন্য এক দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রায় পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এখন এমন যে মৌসুমটা দ্রুত শেষ হলেই যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচে।