মঞ্চে সমুদ্রের নির্জনতায় ভাসে ‘দ্য সি অব সাইলেন্স’
· Prothom Alo

২১ মে, বৃহস্পতিবার। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের বাইরে চেয়ারে বসে কিছুটা মন খারাপই হলো শুরুতে। টিকিট কেটে নাটক দেখতে এলাম, অথচ মানুষ নেই তেমন। কোথাও কোনো পোস্টারও দেখছি না, একদম সাদামাটা। থেসপিয়ানস দ্য ঢাকা’র এই পরিবেশনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম ফেসবুক থেকে। প্রচারণার ধরন ভালো লেগেছিল, সেই সুবাদে আসা। কিন্তু আমার ভুল ধারণা বেশিক্ষণ টিকল না। নাটক শুরুর আগেই মানুষের বেশ ভালো একটা উপস্থিতি দেখতে পেলাম। সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড়ে লাইন ধরেই ভেতরে ঢুকতে হলো।
Visit h-doctor.club for more information.
হলের ভেতর ঢুকে জাহাজের (মঞ্চের) একদম সামনেই বসলাম। পুরো মঞ্চটাকে জাহাজের অবয়বে সাজানো হয়েছে। জাহাজের কেবিনগুলো আলাদা করে নজর কেড়েছে। গল্পের শুরুও হয় এই জাহাজের মধ্যেই। ভিয়েতনামের হাইফোং থেকে ছেড়ে আসা লন্ডনগামী জাহাজে উঠে পড়েন থেসপিয়ানস দ্য ঢাকা’র সদস্যরা। মেয়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যেতে জাহাজের যাত্রী হন একই পরিবারের তিনজন। কিশোরী জেনি, সুফিয়া আর স্বামী ডেভিড। ভাগ্যের দোলাচলে সেখানে এক তিক্ত সত্যের মুখোমুখি হতে হয় সবাইকে। সেই অপরিচিত কিংবা পরিচিত লরেন্সের থেকে বারবার একটা প্রশ্ন ছুটে আসে, ‘মানুষ কি তার পাপের চেয়েও বড় হতে পারে?’
‘দ্য সি অব সাইলেন্স’ নাটকের একটি দৃশ্যএখানেই মূলত মূল রহস্যের শুরু। মাউথ অর্গানের সুরে সমুদ্রে বেজে ওঠে অপরাধবোধ আর মায়া। কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল একটা দ্বিধায় আটকে দেয়। আসলেই কি ক্ষমা করা যায়? অতীতের তিক্ত অন্ধকারের সময়রেখা সমুদ্রে এসে আবার সামনে দাঁড়ায়। মুক্তির উপায় কেমন হতে পারে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠে আসে। কখনো অতীরের ঘটনার উপস্থাপন, কখনো আবার বর্তমান। জাহাজের মধ্যে দুলতে থাকে গোটা গল্পটা। সেই সঙ্গে চরিত্রগুলোও নিজেদের মেলে দেয় সমুদ্রের মাঝে।
নাটকের উপস্থাপনার কথা বলতে গেলে শুরুর দিকে একটা দোলাচল চললেও মাঝপথে টেনে তুলে নেন। তবে নতুন হিসেবে ভালো করেছে। আরেকটু গোছানো হলে আরও বেশি নির্জনতায় ভাসা যেত। ভালো করার সুযোগ রয়েছে। কিশোরী চরিত্রে জেনি অসাধারণ নিপুণতা দেখিয়েছেন। গল্পটি লিখেছেন তাজউদ্দিন তাজু। তিনি একই সঙ্গে নির্দেশনায় ছিলেন এবং অভিনয়ও করেছেন।
আদাবর, ঢাকা