চাঁদপুরে দায়ের কোপে নিহত তরুণ, লাঠির আঘাতে কিশোরের মৃত্যু

· Prothom Alo

চাঁদপুরের হাইমচরে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে ঝগড়া থামাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের ধারাল দায়ের কোপে নিহত হয়েছেন ওমর ফারুক (২২) নামের এক তরুণ। মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটার দিকে উপজেলার ২ নম্বর আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃধা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এদিন চাঁদপুর শহরের যমুনা রোডে গাছ থেকে জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে এক কিশোরের বাঁশের লাঠির আঘাতে আরেক কিশোর মারা গেছে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

হাইমচরে নিহত ওমর ফারুক উপজেলার উত্তর চরভাঙ্গা গ্রামের খালেক ঢালীর একমাত্র ছেলে। তাঁকে হারিয়ে মা-বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাঁরা হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওমর ফারুক ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামে তাঁর নানা হাসমত উল্যাহ মৃধার (৭০) বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে হাসমত উল্যাহর পরিবারের সঙ্গে একই বাড়ির প্রতিপক্ষ কুদ্দুস মৃধা, বিল্লাল মৃধা, হাসান মৃধা ও হাবিব মৃধাসহ কয়েকজনের এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বৃদ্ধ হাসমত উল্যাহকে মারধর করতে উদ্যত হলে নাতি ওমর ফারুক ঝগড়া থামাতে এবং বিরোধ মীমাংসা করতে এগিয়ে যান। ঠিক তখনই বিবাদী পক্ষের লোকজন অতর্কিতে ওমর ফারুক ও তাঁর নানার পরিবারের লোকজনের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। মরিচের গুঁড়ার তীব্রতায় তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়লে প্রতিপক্ষ ধারাল দা দিয়ে ওমর ফারুকের গলায় কোপ মারে। এতে তিনি রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওমর ফারুককে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান।

হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা কাজী মোস্তফা আল মাহমুদ জানান, ওমর ফারুক নামের ওই তরুণের শ্বাসনালি কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ঘটনার পর হাইমচর থানা–পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ জানায়, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের আটকে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নেমেছে। এ বিষয়ে থানায় নিহত তরুণের বাবা আবদুল খালেক ঢালী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

এদিকে চাঁদপুর শহরের যমুনা রোডে গাছ থেকে জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে মুসা প্রধানিয়া (১৭) নামের এক কিশোরের বাঁশের লাঠির আঘাতে মো. ইয়াছিন (১৪) নামের কিশোর নিহত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত মুসা প্রধানিয়া।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে যমুনা রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াছিন ওই এলাকার মো. ইলিয়াছ মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত কিশোর মুসা একই এলাকার প্রধানিয়া বাড়ির সাদেক প্রধানিয়ার ছেলে।

স্থানীয় লোকজন জানান, সকালে এলাকার একটি জামগাছ থেকে জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে মুসা প্রধানিয়া ও একই এলাকার মো. মেহেদী হাসানের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় মেহেদীকে মুসা মারধর করে। ওই সময় ইয়াছিন এগিয়ে এসে মারার কারণ জানতে চাইলে তাকে মুসা হাতে থাকা বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে।  ইয়াছিন লুটিয়ে পড়লে মুসা আরও কয়েকটি আঘাত করে। পরে লোকজন তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় নেওয়ার পথে দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। মূলত জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা হয়। জড়িত সবাই কিশোর বয়সের। ইয়াছিনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে।’

Read full story at source