অভিষেকে জোড়া গোল হলান্ডের, ইরাক গোল পেল ৪০ বছর পর
· Prothom Alo

নরওয়ে ৪–১ ইরাক
ম্যাচের তখন ৮৩ মিনিট। ইরাক গোলকিপার জালাল হাসানকে ডান প্রান্তে একা পেয়ে যান আর্লিং হলান্ড। বেশ জোরে শটও নেন। কিন্তু জালালের পায়ে লেগে বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় হলান্ডের হ্যাটট্রিকটা আর হলো না। শেষ বাঁশি বাজার পর নরওয়ে স্ট্রাইকারকে তাই বিশ্বকাপ অভিষেকে সন্তুষ্ট থাকতে হলো জোড়া গোলে।
Visit playerbros.org for more information.
তবে বোস্টন স্টেডিয়ামে ইরাকের বিপক্ষে নরওয়ের ৪-১ গোলে জয়ের এই ম্যাচে এমন কিছুই প্রত্যাশিত ছিল। ম্যাচটা হবে ‘হলান্ড শো’—হ্যাটট্রিক পেতে পারেন কিংবা নিদেনপক্ষে জোড়া গোল করবেন, এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকের। পৃথিবীর উত্তর প্রান্তের এই ‘গোলমেশিন’ বিশ্বকাপ অভিষেকে সেটা করলেন ম্যাচের ৪৩ মিনিটের মধ্যে। প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের মাঝে ব্যবধান ছিল মাত্র ১৪ মিনিট।
কিন্তু এই ম্যাচকে পুরোপুরি হলান্ডের বলা যাচ্ছে না। কারণ পার্শ্বচরিত্ররাও আছেন। ২৯ ও ৪৩ মিনিটে হলান্ডের জোড়া গোলের পর ৭৬ মিনিটে নরওয়ের হয়ে আরও গোল করেন ও স্কিরি অস্টিগার্ড। যোগ করা সময়ে ৬ মিনিটে নরওয়ে শেষ গোলটি পেয়েছে ইরাকের তারকা স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইনের কাছ থেকে! হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, আত্মঘাতী গোল।
ম্যাচে ইরাকের হয়ে একমাত্র গোলটিও আইমেন হুসেইনের। সেটা সমতাসূচক গোল। ২৯ মিনিটে হলান্ড নরওয়েকে এগিয়ে দেওয়ার পর ৩৯ মিনিটে হেডে গোল করেন আইমেন। পরে আত্মঘাতী গোল করায় বিশ্বকাপে বিরল এক তালিকায়ও নাম লেখান তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি আত্মঘাতী গোলও করলেন আইমেন।
আইমেনের গোল উদ্যাপনবিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয় গোল পেল ইরাক। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল পেয়েছিল ইরাক। ৪০ বছর ৯ দিন পর আইমেনের কল্যাণে আরেকটি গোলের দেখা পেল দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইরাক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো জাতীয় দলের প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের মাঝে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময়ের ব্যবধান। এই ম্যাচেরই জয়ী দল নরওয়ে তালিকায় শীর্ষে।
সেই মেসি, সেই এমবাপ্পে: আবার শুরুর অপেক্ষায়১৯৩৮ বিশ্বকাপের পর ৫৬ বছর ২৮ দিনের বিরতি নিয়ে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে এই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই দ্বিতীয় গোল পেয়েছিল নরওয়ে।
সেই নরওয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার প্রথম ম্যাচেই পেল চার গোলের দেখা। বিশ্বকাপে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় জয়। আর সেই জয়ে যে হলান্ডের অবদানই বেশি, তা না বললেও চলে।
‘আই’ গ্রুপে প্রথম ম্যাচ জিতেই শীর্ষে নরওয়ে। দ্বিতীয় ফ্রান্সের সংগ্রহও সমান ৩ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে নরওয়ের সঙ্গে পিছিয়ে দিদিয়ের দেশমের দল। পয়েন্ট না পাওয়া সেনেগাল তিনে ও ইরাক চারে।
‘অভিনন্দন’ এমবাপ্পে, বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড ভাঙবেন কবে