পানির ট্যাংক থেকেই সংক্রমণ, জানাল সিটি করপোরেশন
· Prothom Alo

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার চন্দ্রনগরের বাবুলের কলোনিতে অপরিষ্কার পানির ট্যাংক থেকেই ডায়রিয়ার সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গত দুই দিনে অন্তত ১৭ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় আবদুল মতিন (৭৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে সিটি করপোরেশনের একটি মেডিক্যাল দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দলটি আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এবং পানির উৎস পরীক্ষা করে।
Visit michezonews.co.za for more information.
সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, কলোনির পানির ট্যাংক অপরিষ্কার ছিল। ট্যাংকের পানি থেকেই ডায়রিয়ার সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিন থেকে চারজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বেশির ভাগ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, আবদুল মতিনকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানিশূন্যতার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাসিন্দাদের নিরাপদ পানি পান, পানি ফুটিয়ে ব্যবহার ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিউল হোসেন বলেন, বাবুলের কলোনিতে ৭০টি পরিবার বসবাস করে। গভীর নলকূপ থেকে পানি তুলে ট্যাংক দুটিতে সংরক্ষণ করে বাসিন্দাদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়। নলকূপের পানিতে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে দীর্ঘদিন ট্যাংক দুটি পরিষ্কার না করায় সেগুলো অপরিষ্কার হয়ে পড়ে। এ কারণে ডায়রিয়ার সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকতে পারে।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে কয়েকজনের পাতলা পায়খানা, বমি ও তীব্র দুর্বলতা শুরু হয়। রাতেই একজনকে টেক্সটাইল মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে একে একে আরও অনেকে একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হন। আক্রান্ত ব্যক্তিরা মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে আবদুল মতিনকে মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালটির চিকিৎসক রাতুল হালদার জানান, তাঁদের হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত সাতজন ভর্তি হয়েছিলেন। সবাই একই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। শুরু থেকেই এটি পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।