নরসিংদীতে ব্যবসায়ীর কানে কামড়ের অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি বিএনপির

· Prothom Alo

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় বালু ব্যবসায়ী  সাখাওয়াত হোসেনকে তুলে নিয়ে তাঁর কানে বিএনপি নেতার কামড় দেওয়ার ঘটনাকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে পৌর বিএনপি। আজ শনিবার দুপুরে ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানান পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা।

Visit xsportfeed.quest for more information.

এর আগে শনিবার ভোরে এই মামলার বাদী ঠিকাদার ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মিয়া মোহাম্মদ সজিবের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তিনি ভুক্তভোগী সাখাওয়াতের ব্যবসায়িক অংশীদার।

সাখাওয়াত হোসেনের বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায়। অন্যদিকে অভিযুক্ত ওই বিএনপি নেতার নাম মহিউদ্দিন চিশতিয়া (৪৪)। তিনি ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

গত সোমবার সন্ধ্যায় পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুট মিলের সামনে থেকে মো. সাখাওয়াত হোসেনকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। তাঁকে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়িতে নিয়ে এক ঘণ্টা আটকে রেখে কিলঘুষি ও চড়থাপ্পড় মারা হয়। একপর্যায়ে ওই বিএনপি নেতা তাঁর গলা চেপে ধরে কানে কামড় দেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাঁর কানে চারটি সেলাই দিতে হয়। ওই ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতেই মহিউদ্দিন চিশতিয়াসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মিয়া মোহাম্মদ সজিব।

দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে মারা গেছে পাখি। শনিবার দুপুরে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরভার মিয়াবাড়ি এলাকায়

সংবাদ সম্মেলনে পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা বলেন, ‘সাখাওয়াত হোসেন নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহতের পাশাপাশি কামড় দিয়ে কান জখমের ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে দেখেছি। এ ঘটনা আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সত্য নয়। ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে ফাঁসাতে চাইছে একটি পক্ষ। বর্তমানের এই ডিজিটাল যুগে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হয় দা-ছুরি ব্যবহার করে বা গুলি করে। এসব কিছু না করে বিএনপি নেতা তাঁর কানে কামড় দেবেন—এটা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। কিছুদিন আগের এক ঘটনার জেরে পরিকল্পিতভাবে কানে কামড়ের ঘটনা ভাইরাল করে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন তাঁরা। পরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাও করেছেন। আমরা এই মিথ্যা মামলা আইনিভাবেই লড়াই করব।’

মামলার বাদী মিয়া মোহাম্মদ সজিবের অভিযোগ, মামলা করার পর থেকেই তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছেন ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়া। আজ ভোরের দিকে দুর্বৃত্তরা তাঁর কার্যালয়ের ভেতরে অগ্নিসংযোগ করে। এ আগুনে তাঁর শতাধিক বই, দেয়ালে টাঙানো জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি, চেয়ার-টেবিলসহ কিছু আসবাব পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় সেখানে থাকা তাঁর ১৫টি পোষা পাখি পুড়ে মারা গেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময়ও এমন হামলার শিকার হইনি। জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি হয়েও বিএনপি নেতার ক্রোধের আগুনে পুড়ে গেলাম।’

আগুনে পুড়ে গেছে ঘরের আসবাব। শনিবার দুপুরে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরভার মিয়াবাড়ি এলাকায়

শনিবার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একটি টিনশেড ঘরে মিয়া মোহাম্মদ সজিবের কার্যালয়। ওই কক্ষের জানালার গ্রিল ভাঙা। ঘরের ভেতরে পড়ে আছে নেতাদের পুড়ে যাওয়া ছবি, চেয়ার-টেবিল ও সোফা। বইয়ের তাকে শতাধিক পোড়া বই আর পাশের এক কোনায় পুড়ে মরে যাওয়া ১৫টি বিভিন্ন জাতের পোষা পাখি।

নরসিংদীতে ব্যবসায়ীর কান কামড়ে বিএনপি নেতা বললেন, ‘এলাকা ছাড়’

মামলার বাদীর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের খবর শুনেছেন বলে জানান পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, টি কে খান গ্রুপের একটি প্রকল্পে বালু-ইট-রড-সিমেন্ট সরবরাহ করার দায়িত্ব পান মিয়া মোহাম্মদ সজিব। এর পরিপ্রেক্ষিতে বালু সরবরাহ করার জন্য সাখাওয়াত হোসেনের কাছ থেকে একটি ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভাড়া করেন। গত সোমবার বাংলাদেশ জুট মিলের ভেতরে শীতলক্ষ্যার পাড়ে ওই ড্রেজার-পাইপ সেট করা হচ্ছিল। বিকেল ৪টার দিকে মহিউদ্দিন চিশতিয়ার নির্দেশে আসামিরা মোটরসাইকেলে এসে সাখাওয়াতের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাঁর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়িতে নিয়ে যান। তাঁকে বাড়ির উঠানে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করেন আসামিরা। একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরে কানে কামড় দিয়ে কান ছিঁড়ে ফেলেন মহিউদ্দিন চিশতিয়া। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে বাড়ির বাইরে ফেলে আসেন আসামিরা।

নরসিংদীতে ব্যবসায়ীর কান কামড়ে দেওয়া বিএনপি নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Read full story at source