মতিঝিলের ঘটনার সঙ্গে মিরপুর–ফার্মগেটের ঘটনার যোগসূত্র নেই: সিটিটিসি

· Prothom Alo

কয়েক দিন আগে রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচ থেকে বোমা উদ্ধার হওয়ার সঙ্গে মিরপুর–১০ ও ফার্মগেট স্টেশন এলাকায় বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়ার ঘটনার কোনো যোগসূত্র নেই। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক এ কথা বলেছেন। তবে তাঁরা এসব ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন বলে তিনি জানান।

Visit betsport.cv for more information.

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির এই কর্মকর্তা এ কথা বলেন।

পুলিশ এর আগে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আজ দুপুরে মিরপুর-১০ মেট্রোস্টেশনের দ্বিতীয় তলায় একটি সন্দেহজনক ব্যাগ দেখতে পান কয়েকজন। একই সময়ে ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনের নিচতলায় একটি পিলারের পাশে আরেকটি সন্দেহজনক বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। ব্যাগ ও বস্তায় বোমা থাকতে পারে সন্দেহে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

পরে ডিএমপির বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থল গিয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে জানায়, এগুলোতে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য নেই। তবে এ ঘটনায় মিরপুর স্টেশনটি সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিকেলে এ ঘটনার বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলন করে সিটিটিসি।

এর আগে গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে মতিঝিলে মেট্রোস্টেশনের নিচ থেকে একটি ছাতার ভেতরে রাখা বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সেটি নিষ্ক্রিয় করে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দল। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, নিষ্ক্রিয় করা বোমাটি আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস)। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় স্প্লিন্টার চোখে লেগে এক ব্যক্তি আহত হন। এ ঘটনার পর থেকে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের দ্বিতীয় তলায় দুপুরে সন্দেহজনক ব্যাগটি দেখা যায়। মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশন, ১ আগস্ট

মতিঝিলের ঘটনার সঙ্গে আজকের ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি কর্মকর্তা শামসুল হক বলেন, ‘দুটি বস্তু পাওয়া গেছে। মিরপুর–১০ স্টেশনে পান, জর্দার কৌটা ইত্যাদি বস্তু পাওয়া গেছে। সেখানে কোনো বিস্ফরক পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ফার্মগেটে বস্তার মধ্যে আবর্জনা ছিল। সুতরাং এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। মতিঝিলের ঘটনার সঙ্গে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো যোগসূত্র পাইনি।

মেট্রোর স্টেশনে ব্যাগে পাওয়া গেল জর্দার কৌটা ও পান

তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে সিটিটিসির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর মন্তব্য করতে পারব না। মতিঝিলের ঘটনা নিয়ে আমাদের মতিঝিল বিভাগ কাজ করছে। পাশাপাশি আমরা এবং ডিবি (পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ) সবাই কাজ করছি। যখনই কোনো আপডেট (হালনাগাদ তথ্য) পাওয়া যাবে, সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের বলব।’

মেট্রোস্টেশনের ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা বন্ধ, ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না, মানুষ আতঙ্কিত হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে শামসুল হক বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ব্যাগ ও বস্তা কে রেখেছে, সেটি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজসহ অন্য বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে সব বের হয়ে আসবে।

সিটিটিসি নিজস্ব কাজ ছেড়ে ছিনতাইকারী ধরা নিয়ে ব্যস্ত থাকছে, ফলে এই মুহূর্তে সিটিটিসি কতটুকু শক্তিশালী— এমন প্রশ্নের জবাবে শামসুল হক বলেন, ‘সিটিটিসির মূল কাজের মধ্যে বেশ কয়েকটি ডিভিশন (বিভাগ) রয়েছে, যেমন সাইবার, কাউন্টার টেরোরিজম এবং ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম। আমরা সব কটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি। কেউ যেন আতঙ্কিত না হয় এবং শান্ত থাকে, সে জন্যই এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।’

ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচতলায় সন্দেহজনক বস্তা। পরে এতে কিছু পাওয়া যায়নি। ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশন, ১ আগস্ট

গোয়েন্দা তথ্যের কোনো ঘাটতি আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘না, গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি আছে বলে আমি মনে করছি না। আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং (নজরদারি) এবং নিজস্ব গোয়েন্দা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অব্যাহত আছে। এই সতর্কতার কারণেই আমরা মামলার আসামি গ্রেপ্তার করছি। কিছুদিন আগে একটি মামলার আসামি গ্রেপ্তার করার পর তাঁরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সবকিছু আমাদের মনিটরিংয়ের মধ্যে আছে।’

পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের গ্রেপ্তার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামসুল হক বলেন, ‘যারা পালিয়ে গেছে, তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আমাদের নিজস্ব গোয়েন্দা মনিটরিং বা অন্যান্য যে প্রক্রিয়া, সে প্রক্রিয়াও অব্যাহত আছে। তাদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।’

মতিঝিলে মেট্রোস্টেশনের নিচ থেকে পাওয়া বোমার উৎস খুঁজছে পুলিশ

Read full story at source