আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি, তাঁর কথা শোনা ও সমর্থন দেওয়া অপরিহার্য
· Prothom Alo

বিশ্বে প্রতিবছর সাত লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ আত্মহত্যা ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তাঁরা আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে ‘চেইঞ্জিং দ্য ন্যারেটিভ অন সুইসাইড’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথা উঠে আসে। আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) এ সেমিনারের আয়োজন করে।
Visit somethingsdifferent.biz for more information.
সেমিনারে আলোচকেরা বলেন, পরিবারের কোনো সদস্য, বন্ধু, সহপাঠী বা সহকর্মীর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বা লক্ষণ দেখা গেলে তাঁর প্রতি তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়া উচিত। এ সময় সহানুভূতি দেখানোর পাশাপাশি তাঁর অব্যক্ত কথাগুলো শুনে মানসিক যন্ত্রণা প্রশমনে সহায়তা করতে হবে। সমস্যার সমাধানের পথ বের করার পাশাপাশি কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান তাঁরা।
সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য তুলে ধরে বলেন, প্রতিবছর বিশ্বে সাত লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যায় মারা যান। বিশ্বজুড়ে সংঘটিত আত্মহত্যার প্রায় ৭৭ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে।
ডা. ফারজানা রহমান বলেন, সর্বোচ্চ মানের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মানুষের অধিকার। আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মনোযোগও নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিটিএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান বলেন, প্রচলিত ধারণা পরিবর্তনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন প্রয়োজন। এর অর্থ হলো এমন বহুমাত্রিক নীতির পক্ষে কথা বলা, যা মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়, চিকিৎসার সুযোগ বাড়ায় এবং প্রয়োজনে সহায়তা প্রদান করে। তিনি আরও বলেন, যাঁরা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি সহানুভূতি ও করুণা জাগিয়ে তোলা দরকার। আত্মহত্যার চিন্তা ও অনুভূতি প্রচণ্ড যন্ত্রণা ও কষ্টের। আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি, তাঁর কথা শোনা ও সমর্থন দেওয়া অপরিহার্য।
জয়শ্রী জামান বলেন, অধিকাংশ মানুষ জানেন না বা বিশ্বাস করেন না যে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা যায়। প্রচলিত মিথ এবং অসংখ্য মিথ্যা ও ভুল তথ্যের ভিড়ে প্রকৃত সত্য চাপা পড়ে যায়। কেউ আত্মহত্যা করতে চাইলে নানাভাবে সংকেত দেন। এ সময় যদি তাৎক্ষণিক তাঁর প্রতি সাড়া দেওয়া যায়, তাহলে তা প্রতিরোধ সম্ভব।
সেমিনারে বক্তব্য দেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যাপক (অব.) কাজী লুতফুন নেসা, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কবিতা দিলাওয়ার, বিনির্মাণ সংগঠনের সভাপতি নিলুফার বিলকিস এবং ইনারহুইল ক্লাব অব ওয়েসিস ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫-এর প্রেসিডেন্ট সাদিয়া জিনাত।
অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তির পাশাপাশি বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপপ্রধান বার্তা সম্পাদক কবি জুনান নাশিত এবং বিটিএফের উপদেষ্টা, লেখক, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মী এমিলি জামান। নৃত্য পরিবেশন করেন সৈয়দা তাসফিয়া জাহান সাবা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইনারহুইল ক্লাব অব লবেলিয়া ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫-এর ফাতিমা হাসনাত।