টাঙ্গাইলে সেতু নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই

· Prothom Alo

টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে রাতের আঁধারে ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার রাতের ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

Visit rocore.sbs for more information.

ওই ঘটনায় ঠিকাদার ও সেতুটির নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাঁদের তিনদিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আজ মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হোসেন জানান, আগামী এক দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপাইজ (জেভি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারিতে। পরে সেতুটির কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে এই সেতুর ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাঁরা বাধা দেন। একপর্যায়ে কাজটি বন্ধ করা হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা মুঠোফোনে ওই কাজের ভিডিও ধারণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা চলে যাওয়ার পর রাতে আবার নির্মাণকাজ শুরু হয়। ওই রাতেই ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরির কাজ শেষ হয়।

পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণ করা ওই ঘটনা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।

এ ঘটনা তদন্তের জন্য ইউএনও ইকবাল হোসেন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) আহাদি হোসেনকে। কমিটিকে আগামী এক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

সেতুর নির্মাণকাজ দেখতে ভিড় করেছেন এলাকার লোকজন। টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায়

সেতুটি নির্মাণের কাজ পেয়েছে ভোলার চরফ্যাশনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপাইজ (জেভি)। তবে কাজটি করছেন টাঙ্গাইলের ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, রডের পরিবর্তে বাঁশ দেওয়ার যে চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে তা সঠিক নয়। সেতুর ফুটপাত স্ল্যাব নির্মাণে বাঁশ দিয়ে সাটারিং করা হয়েছে। তার ওপর পলিথিন দিয়ে রড বসানো হয়। তারপর ঢালাই করা হয়। কিন্তু ঢালাই তুলে রড সরিয়ে বাঁশের ভিডিও করা হয়েছে এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়।

জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, ‘কারণ দর্শানোর জবাব দেব। সেই সাথে নতুন করে সেতুর ফুটপাত স্ল্যাবেরও কাজ করে দেব।’

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, সেতুর যেসব জায়গায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দ্রুতই কাজগুলো আবার করা হবে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ রেকটিফিকেশন করণ ও গাফিলতির জন্য কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।

Read full story at source