নিখোঁজের তিন দিন পর খালে পাওয়া গেল স্কুলছাত্রের বস্তাবন্দী মরদেহ

· Prothom Alo

তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিল সাত বছরের শিশু ইসমাইল। স্বজনেরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছেন, মাইকিং করেছেন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। শেষ পর্যন্ত আজ মঙ্গলবার সকালে ভোলার বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া-সংলগ্ন একটি খালে বস্তাবন্দী অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।

Visit moryak.biz for more information.

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক তরুণকে (২২) আটক করেছে পুলিশ। নিহত শিশুটির নাম মো. ইসমাইল (৭)। সে মুসলিমপাড়া এলাকার আকবর হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইসমাইল নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। স্থানীয়দের পরামর্শে পুকুরেও খোঁজা হয়। পরে ওই দিন থানায় জিডি করেন তাঁরা। তবে শিশুটির সন্ধান মেলেনি।

আজ সকালে স্থানীয় কয়েকজন খালে একটি বস্তা ভাসতে দেখে কাছে যান। বস্তার ভেতরে শিশুর মরদেহ দেখতে পেয়ে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

আশরাফউদ্দিন, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসন্দেহভাজন হিসেবে ওই তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহত শিশুর বাবা আকবর হোসেন বলেন, প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন ছেলে হয়তো কোথাও খেলতে গেছে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ছেলের সন্ধান পাননি। আজ সকালে খবর পান পেলাম, খালে একটি বস্তা ভাসছে। সেখানে গিয়ে দেখেন, বস্তায় তাঁর ছেলের মরদেহ।

শিশুটির চাচা শাহিনের অভিযোগ, আটক তরুণের বিরুদ্ধে এর আগেও চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

কিছুদিন আগে একটি মুঠোফোন কেনাকে কেন্দ্র করে ইসমাইলের বাবা আকবর হোসেনের সঙ্গে ওই তরুণের বিরোধ হয়েছিল বলে জানান শিশুটির চাচি নুরুন নাহার। তাঁর দাবি, ওই সময় ওই তরুণ তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘তোকে আমি এমন করব, সারা জীবন কাঁদবি।’

তবে পরিবারের এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফউদ্দিন বলেন, সন্দেহভাজন হিসেবে ওই তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Read full story at source