আমাদের সেই মাঠটা
· Prothom Alo

এটা শুধু একটা মাঠ নয়, আমাদের ছোটবেলার একটা আস্ত পৃথিবী।
মাঠের এক অংশে ছিল সবুজ ঘাস, আর অন্য অংশে ছিল একটা পুকুর। তখন পুকুরটা আজকের মতো সুন্দর বা পরিষ্কার ছিল না, তবু আমাদের কাছে জায়গাটা ছিল অসম্ভব প্রিয়। এই মাঠেই ক্রিকেটের ব্যাট হাতে কত বিকেল কেটেছে, ফুটবল খেলতে গিয়ে কত সন্ধ্যা নেমেছে—তার কোনো হিসাব নেই।
Visit newsbetsport.bond for more information.
আমাদের কাছে তখন খেলা মানেই ছিল এই মাঠ। রোদ, বৃষ্টি, শীত, কুয়াশা—কোনো কিছুই আমাদের থামাতে পারত না। শীতের ঘন কুয়াশায় যখন চারপাশ প্রায় অদৃশ্য হয়ে যেত, তখনো বলের শব্দ আর আমাদের চিৎকারে মাঠটা জীবন্ত থাকত।
আর ছিল আমাদের সেই চিরচেনা প্রতিদ্বন্দ্বী দল। কতবার যে রাতের অন্ধকারে তারা এসে আমাদের ক্রিকেট পিচটা ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে গেছে! সকালে এসে পিচের অবস্থা দেখে মন খারাপ হয়েছে, রাগ হয়েছে, কিন্তু হাল ছেড়ে দিইনি। সবাই মিলে আবার মাটি কেটেছি, পিচ ঠিক করেছি, দাগ টেনেছি—তারপর শুরু হয়েছে খেলা। কারণ, মাঠটা শুধু খেলার জায়গা ছিল না, এটা ছিল আমাদের বন্ধুত্ব, আমাদের শৈশব আর আমাদের ছোট ছোট জয়ের সাক্ষী।
আজ এত বছর পর ছবিটা হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে সামনে চলে এল। দেখে কিছু সময় ছবিটা জুম করে নিজেকে খুঁজলাম ঠিক কোথা থেকে বল হাতে দৌড় দিতাম অথবা গোলপোস্ট আগলে রাখতাম। মাঠটা এখন আগের মতো নেই, পুকুরটাও বদলে গেছে, চারপাশের দৃশ্যও পাল্টেছে। কিন্তু স্মৃতিগুলো ঠিক আগের মতোই আছে।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
সেই মাঠে হয়তো এখন আর আমাদের ব্যাটের শব্দ শোনা যায় না, ফুটবলের পেছনে ছুটতে দেখা যায় না আমাদের। কিন্তু মনের ভেতর ফিরে তাকালে এখনো দেখতে পাই—একদল দুরন্ত ছেলে, হাতে ব্যাট-বল, চোখে জয়ের স্বপ্ন, আর পুরো পৃথিবীটাকে ভুলে গিয়ে খেলায় মেতে থাকা কিছু নির্মল শৈশব।
কিছু জায়গা বয়সের সঙ্গে ছোট হয়ে যায় না—বরং স্মৃতির ভেতর আরও বড় হয়ে ওঠে। আমাদের সেই মাঠটা ঠিক তেমনই—আমাদের ছোটবেলার সবচেয়ে সুন্দর ঠিকানাগুলোর একটি।
মাঠের স্থান: বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি নাজিমুদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় মাঠ (পেছনের মাঠ), ঈশ্বরদী