মুগ্ধ হত্যা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন
· Prothom Alo

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর এ মামলায় সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
Visit mchezo.life for more information.
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ রোববার এ আদেশ দেন।
এই মামলার ২৬ আসামির মধ্যে ৮ জন গ্রেপ্তার আছেন। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান, সাবেক কনস্টেবল হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সহযোগী দেলোয়ার হোসেন, মো. শাহ আলম ও মো. ইরফানুল হক গাজী। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এই মামলার উপস্থিত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। পরে উপস্থিত আসামিদের বিচারপতি প্রশ্ন করেন, তাঁদের (উপস্থিত আসামি) বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেন কি না। জবাবে উপস্থিত আসামিরা বলেন, তাঁরা নির্দোষ। তাঁরা ন্যায়বিচার চান। তারপর এই মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এই মামলার অন্য ১৮ জন আসামি পলাতক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপি উত্তরা বিভাগের সাবেক ডিসি কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক এডিসি তৌহিদুল ইসলাম, সাবেক এসি সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বি এম ফরমান আলী প্রমুখ।
এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে সহযোগিতার পাশাপাশি আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। সে সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। সতীর্থ আন্দোলনকারীরা তাঁকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একই দিন উত্তরা এলাকায় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া সেদিন উত্তরায় এপিসির (সাঁজোয়া যান) পেছনের চাকায় পিষ্ট করে উবারচালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়কে হত্যা করা হয়।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আসামিরা উত্তরা এলাকায় রিদোয়ান শরীফ, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানাকে গুলি করে হত্যা করেন বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।