বাঘদাশ

· Prothom Alo

‘বাঘদাশ’ ১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। গল্পটি আজ প্রথম অনলাইন পাঠককের জন্য তুলে ধরা হলো।

রাতে ঝটপট একটা শব্দ কানে এসেছিল, বুড়ির এমনিতে ঘুম আসে না, শেষ প্রহরে বোধ করি চোখের পাতা লেগে এসেছিল। দাপাদাপির শব্দটা সে কারণেই শুনতে পায়নি। বড় ঝুঁটিওয়ালাটিকে নামাতেই জন্তুটার বেগ পেতে হচ্ছিল। উঁচু টং থেকে লাফ দিয়ে নামতে গিয়ে ঘাড়ের কাছটায় দাঁতের সাঁড়াশি আলাদা হয়ে গিয়েছিল, মুমূর্ষু পাখিটা সেই সামান্য অবকাশে মরণপণ চিত্কার দিয়ে জাগিয়ে তুলেছিল বুড়িকে। মাটির বাসনের মতো শব্দ করে ঘুমটা ভেঙে যায় বুড়ির। অন্ধকারেই পাগলের মতো কুপিটা হাতড়াতে থাকে, মুরগির মতোই ছটফট করতে থাকে বুকটা, কাঁপা কাঁপা হাতে কুপিটা ধরিয়ে দোরের দিকে রওয়ানা হয়। দরজার পাল্লাটা হাট হতেই একপলক বাতাস এসে নিভিয়ে দিল কুপিটা। বুড়ি আর্তনাদ করে ওঠে, ‘হায়... আল্লাহ...’ বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। আক্ষেপ করতে করতে সে আবার ঘরের ভেতর ঢোকে, কুপিটা জ্বালিয়ে নিয়ে বাইরে বেরোয়। মোরগের ঘরটা হাট করে খোলা, দেখে বুড়ির বুকটা হাট হয়ে যায়, বাতির হালকা আলোয় মাটিতে পড়ে থাকা কটি পালক কম্পিত আঙুলে ছোঁয়, নিজের অবর্ণনীয় ক্ষতকেই উল্টেপাল্টে দেখে।

Visit betsport24.es for more information.

ভোরবেলা মিহির যাচ্ছিল পাশের রাস্তা দিয়ে। বুড়ির হাপুস শব্দের কান্না তার কানে এলে, সে দাঁড়িয়ে পড়ে। বাইরের আচ্ছাদন সরিয়ে সে পাতাছাওয়া পথটুকু পার হয়, বুড়ির ঘরের সামনে এসে দাঁড়ায়, বৃত্তান্ত সব শোনে। তাকে দেখে বুড়ির কান্না বিলাপে পরিণত হয়! মুরগিগুলো ছিল বুড়ির বেঁচে থাকার ন্যূনতম আয়ের উত্স, ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বড় করে মুরগি বানিয়ে বিক্রি করে সে চলত। রাতে সব কটাকেই নিয়ে গেছে বাঘদাশ। বুড়ির প্রতিবেশীদের কেউ কেউ তখন উঠোনে এসে দাঁড়িয়েছে। তাদেরই একজন কলমীর মা মিহিরকে উদ্দেশ করে বলে, পরশু রাতে আমেনাদের খোঁয়াড় থেকে নিয়ে গেছে দুটো বড়সড় রাতা। বুড়ি কাঁদছে অবিকল স্বজন হারানোর শোকে। দর্শক–উপস্থিতি সেটাকে একটা নাটকীয়তার দিকে নিয়ে যায়। বুড়ির পিঠে সান্ত্বনার হাত রাখে মিহির। এই অনাথ ছেলেটির সাথে বুড়ির একটা আত্মিক সম্পর্ক আছে, হয়তো আছে মিলও। দুজনই সংসারে একা। বুড়ির ছেলেগুলো সবাই মায়ের আগেই পরপারে পাড়ি জমিয়েছে, দুটো মেয়ের বিয়ে হয়েছে দূর অঞ্চলে, কালেভদ্রে তারা আসে। আর মিহির ছোটবেলা থেকেই পিতৃমাতৃহীন। কাঠুরে বাবা একদিন আর জঙ্গল থেকে ফিরল না। কিছুদিন পর ডেঙ্গু জ্বরে মারা গেল মিহিরের অসম্ভব আদুরে মা। সবাই বলে, ছেলেটি কপালপোড়া। বাবা-মায়ের অভাব সেভাবে বুঝতে পারে না মিহির। এক দূরসম্পর্কের খালা মিহিরকে মানুষ করছিল, চার-পাঁচ বছর না পেরোতেই খালার একান্নবর্তী পরিবারের অন্য সদস্যদের কারণে মিহিরকে সে আশ্রয় ছাড়তে হয়। এখানে–ওখানে ছন্নছাড়ার মতো কেটেছে তার দিন। গত ৪/৫ বছর মিহির থাকছে রহিম শেখের চালাবাড়িতে।

বুড়ির কান্না মিহিরকে বিচলিত করে। আর কিছু না পারুক, শয়তান বাঘদাশটিকে সে খতম করবেই, এমন একটা প্রতিজ্ঞা নিয়ে সে চলে আসে। হাটখোলার দক্ষিণে ভাঙা পুকুরঘাটটায় মিহির ওদের পায়, আডডা মারছিল সবাই। এই পুকুরঘাট গ্রামের বেকার যুবকদের একটা আড্ডাস্থল হয়ে উঠেছে।

মিহির আগাগোড়া ঘটনাটা ওদের বলে এবং বাঘদাশ মারার অভিযানের পরিকল্পনাও ওদের জানায়। কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না ভিড়ের মধ্যে। মোল্লাবাড়ির জনা তিনেক ছেলে ছিল আড্ডায়, ওরাই বেশি আমল দিল না। ওদের একজন, মোটাসোটা মনা, বলল, ‘বাদ দাও এসব প্ল্যান, আধুনিক যুগে বাঘদাশ মারা হাস্যকর হবে। তা ছাড়া একটা বাঘদাশ মারার জন্য এত আয়োজন কি পোষাবে?’ লম্বামুখো শহিদ বলে, ‘তুমি কি গুনে দেখেছ, কটা?’ একটা হাসির রোল ওঠে। মিহির তবু দমে না, ওদের বিস্তৃতভাবে বুঝিয়ে দেয় প্ল্যানটা। কোনার দিকে বসে থাকা ঝাঁকড়া চুল আতিয়ার বলে, ‘তোমার পরিকল্পনা দেখি বাঘা বাঘা শিকারিকেও হার মানাবে।’ পুনর্বার হাসিতে ফেটে পড়ে গোটা আসরটি। মিহির পা বাড়ায়, রাগে ভেতরটা জ্বলতে থাকে।

সেদিনই পড়ন্ত বিকেলে মোল্লা বাড়ির রহমান মোল্লার বড় বউয়ের চোখের সামনে দিয়ে একটা মুরগি মুখে পুরে পালাল বদমাশ বাঘদাশটা। মোল্লা বাড়িটা প্রকাণ্ড, অনেক ঘর সেখানে, গায়ে গায়ে লাগানো পঁচিশ-ত্রিশখানা টিনের ঘর। জোয়ান ছেলেও আছে অনেকগুলো। এবার ওরাই খুঁজে বের করে মিহিরকে।

প্রথমেই গোটা দশেক বর্শা জোগাড় করে ওরা। ওটাই অস্ত্র। বাপ একসময় লাঠিয়াল ছিল, চালা থেকে পুরোনো ভারী বর্শাটা নামিয়ে আনে মজাহার। বর্শা না পেয়ে কেউ কেউ মাছ ধরার কোঁচও নেয়, কারও হাতে মুগুর বা লাঠি, বর্শা দিয়ে গেঁথে ফেলার পর লাঠিপেটা করার প্রস্তুতি। বেশ বড়সড় হয়ে যায় দলটা, খবর পেয়ে আশপাশের গ্রাম থেকেও যোগ দেয় অনেকেই। সারা গ্রামে যেন যুদ্ধ আয়োজন। ছোট বালকদের মধ্যেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়, তারাও বড়দের সাথে যেতে উত্সুক। স্থবির জীবনযাত্রায় যেন একটা ঢেউ এসে লেগেছে।

উত্তর পাড়ার বড় বাগানটির পশ্চিম প্রান্ত থেকে ওদের অভিযান শুরু হয়, একসঙ্গে দৌড়ে আসা কয়েক শ পায়ের আওয়াজে আনাড়ি গ্রাম্য জঙ্গলটি হঠাৎ স্পন্দনমুখর হয়ে ওঠে, গাছের পাতায় শব্দ তুলে ছোট ঝোপঝাড় তোলপাড় করে দলটা মারমুখী হয়ে এগিয়ে যায়। অ্যাডভেঞ্চারের স্পর্শে সবাই টগবগ করছে। প্রতিটি ঝোপের তলায় বর্শা দিয়ে খুঁচিয়ে দেখছে, কোনো বড়সড় গর্ত দেখলে সেটা শূন্য প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ঘিরে আছে সশস্ত্র প্রহরায়, এলোপাতাড়ি লাঠির ঘায়ে যত্রতত্র পিটিয়ে যাচ্ছে। তাতে পাতাগুল্ম ছিঁড়ে যাচ্ছে, ধুলা উড়ছে, মাটি কাঁপছে; কিন্তু শত্রুর কোনো দেখা নেই। নাপিত বাগানের কাছেই একটা বড় গর্ত আবিষ্কার করে একজন। গুপ্তধন পাওয়ার আশায় যেন জড়োবদ্ধ হয় সকলে, বর্শা দিয়ে সম্ভাব্য দূরত্ব পর্যন্ত খুঁচিয়ে যখন কিছু মেলে না, তখন একজনের বুদ্ধিতে আগুন জালিয়ে দেওয়া হয়, শয়তানটা আগুনের তাপে নিশ্চিতই বেরিয়ে আসবে। কজন সম্ভাব্য ত্বরিত বর্শা চালানোর উত্তেজনায় মুখিয়ে থাকে, গর্তটা ঘিরে সশস্ত্র যোদ্ধাদের একটা চক্র। একটু পরেই একটা শব্দ হয় পেছনে আর একলাফে বেরিয়ে আসে জন্তুটা। অন্য একটি অপেক্ষাকৃত ছোট গর্ত দিয়ে। সবাই একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়লে দেরি হয়ে যায়, ঘটনার অপ্রত্যাশিত মোড় নেওয়াই এর কারণ। বাঘদাশ নয়, একটা বড়সড় শেয়াল দ্রুত অন্তর্হিত হয়ে যায় ঝোপের ভেতর; পড়িমরি ছোটে সবাই। সমুখের বড় ঝোপটা প্রায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে আর তখনই বেরিয়ে আসে বাঘদাশটা, অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই। উত্তেজনার চোটে সকলেরই কয়েক সেকেন্ড দেরি হয়ে যায়, পরমুহূর্তেই অনেকগুলো বর্শা আর লাঠির যুগপৎ আঘাত নেমে আসে মাটিতে। সবগুলোই ব্যর্থ হয়, এক আশ্চর্য অ্যাক্রোবেটিকস দেখায় প্রাণীটি, শরীর বাঁকিয়ে অন্তত ব্যর্থ করে দেয় বর্শার তীক্ষ্ম ফলাগুলোর সক্রোধ নেমে আসা; দ্রুত তোলে দ্বিতীয় আঘাত, ধাবমান জন্তুটির পেছনের পায়ে সেটা গেঁথে দিতে সমর্থ হয় মিহির। সজোরই মেরেছিল সে। লোমশ দেহে পিছলে যায় বর্শাটা, একটা মোচড় দিয়ে আহত জন্তুটা ছুটে পালায়, মাটি আর পাতার ওপর রক্তের একটা ধারা পড়ে থাকে। জন্তুটাকে অনুসরণ করে একযোগে দৌড়ায় সবাই; শত্রুর শুধু দেখাই মেলেনি, সেটাকে আহতও করা গেছে। তাদের উত্সাহের মাত্রা তখন চতুর্গুণ। ছুটতে গিয়ে জঙ্গলের ভেতর একটা পরিত্যক্ত পাতাছাওয়া ডোবার ভেতর পড়ে যায় বাঘদাশটা, অপর পাড়ে উঠতে না উঠতেই অনেকগুলো লাঠির আঘাতে আর বর্শার ফলায় সেটার দেহ থেঁতলে যায়। ওদের দাপাদাপি আর হইহল্লা জঙ্গলের ভেতর লুকানো সবগুলো প্রাণীর প্রাণেই ততক্ষণে মৃত্যুভয় পৌঁছে দেয়। একটা ভোঁদড় লুকানো গর্ত থেকে বের হয়ে অযথাই ছুটতে গিয়ে প্রাণ হারায়। ডোবার পূর্ব পাড়ে জঙ্গলের ভেতর প্রাণভয়ে ছুটে গেল এক শজারু, সম্ভ্রান্ত গা থেকে তিরের মতো কাঁটা ছিটিয়ে সেটিকে অনুসরণরত বালক দল ওই প্রতি–আক্রমণে ভীত হয়ে সামান্য পিছিয়ে পড়ে, একটা গর্তের ভেতর হারিয়ে যায় শজারুটি। ইতিমধ্যেই আরেকটি দল মরিচাপুরে বেতবনের ভেতর একটা উচু বৃক্ষের ডালে একটা ভীত ভোঁদড় আবিষ্কার করেছে, সেটা এত উঁচুতে যে বালকদের উত্সাহী ঢিলও সেখানে পৌঁছাতে পারছে না। অত্যুত্সাহীদের কেউ কেউ পাশেই দাঁড়ানো একটি সুপারিগাছ বেয়ে বড় গাছটির কাছাকাছি ডালে উঠে যায়, বৃক্ষটির নিচের অংশ এতই প্রকাণ্ড যে সেটা বেয়ে ওঠা একরকম অসম্ভব। সবাই নিচে জড়ো হয়ে হা হয়ে ওপরের ওই নাটক দেখছে। একসঙ্গে চার-পাঁচজন হামলাকারী মানুষের নাগালের মধ্যে এগিয়ে আসা দেখে শঙ্কিত ভোঁদড়টি পার্শ্ববর্তী একটা তেঁতুলগাছের ডালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সবাই আশ্চর্য সার্কাস দেখে, সেটি ঠিকই দ্রুতবেগে তাল সামলে ডাল বেয়ে দ্বিতীয় লাফে নেমে পড়ে নিচু একটি ডালে এবং তৃতীয় ঝাঁপে মাটিতে পড়েই ভোঁ–দৌড়।

দুপুরের মাঝামাঝি দলটা বিভিন্ন ছোট দলে ভাগ হয়ে যায়। মিহির আর নয়ন আলাদা হয়ে পড়েছিল অন্য সবার থেকে। ওরা এসে পড়েছিল পোদ্দার বাড়ির পড়ো ভিটের ওপর, এখানে জঙ্গল সবচেয়ে গভীর, লতায় আর অন্ধকারে গুল্মময় সারাটা অঞ্চল। ভিটে থেকে নামতে ওরা একটি শেয়ালের গর্ত দেখতে পায়। নয়নকে এর অপর মাথাটি খুঁজে বের করে আনলে রাখতে বলে মিহির আর নিজে গর্তের মুখটা দিয়ে ‘গৃহস্থ’কে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। সে সময় ঝোপের অপর পার্শ্ব থেকে চাপা ও ভয়ার্ত গলায় নয়ন মিহিরকে ডাকে, ‘মিহিরদা....মিহিরদা....’

ছুটে যায় মিহির আর গিয়েই নিশ্চল হয়ে পড়ে। একটা অর্ধভুক্ত লাশের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁপছে নয়ন। অনেকটা কঙ্কালও বেরিয়ে পড়ছে। প্রতি রাতেই শেয়ালটার উত্কৃষ্ট আহার জোটে, বুঝতে অসুবিধা হয় না। মিহিররা যে বাঘদাশটির পিছু অনুসরণ করে এতদূর এসেছে, সেও হয়তো ভাগ বসায়। যদিও চামড়া শুকিয়ে কালশিটে হয়েছে, মুখমণ্ডলের অর্ধেকই উধাও ও বাকি অর্ধেক বিকৃত, তবু লাশটা চিনতে অসুবিধা হয় না ওদের। গুম হয়ে যাওয়া আজমতকে এভাবে আবিষ্কার করবে, ওরা কি ভেবেছিল?

মুখ ঢেকে ফেলে মিহির, শক্ত হাতে নয়নের মুঠোবন্দী হাতটা ধরে রাখে। দুজনই সরে আসে বীভত্স দৃশ্যটা থেকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো দলের ভেতর রটে যায় খবরটা, নিখোঁজ আজমতের শেষ পরিণতি। বাঘদাশ শিকারে উত্তেজনা মিইয়ে আসে সহসাই। সাহসী কেউ কেউ গিয়ে লাশটা দেখে আসে, বাকিরা ভয়ে চলে যায় যার যার বাড়িতে। নয়ন তখন অঝোরে কাঁদছে, মিহির ওর কাঁধটা ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকে অনড়। তার শরীরের ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের মতো চিন্তার ঢেউ বয়ে যায়। সে অনুমান করতে পারে, এটা কার কীর্তি।

সে রাতে অনেক সময় ধরে গ্রামে কেউ ঘুমাতে পারে না। রহিম মিয়ার চালার সম্মুখে ওরা চারটি যুবক মিহিরকে ঘিরে বসে থাকে। মিহিরই ওদের ডেকেছে। সবার হাতেই বর্শা। একবার ঘরের ভেতর গিয়ে নিজের বর্শাটা নিয়ে উঠানে নামে মিহির। পূর্ণিমার আলোয় পুনর্বার পরখ করে নেয় বর্শার অগ্রভাগ। সেখানে তখনো নিহত পশুর রক্ত শুকিয়ে আছে। সবাইকে উদ্দেশ করে মিহির বলে, ‘চলো সবাই, আসল বাঘদাশটা এখনো জীবিত। ওটাকে না মেরে শান্তিতে ঘুমাতে পারব না আমরা কেউ।’

চাঁদের আলোয় বর্শা হাতে ওদের দীপ্ত ভঙ্গি অসম্ভব সুন্দর দেখায়।

Read full story at source