জুলফি-কাহিনি
· Prothom Alo

২০১২ সালের এপ্রিল মাসে কিশোরদের জন্য নববর্ষ সংখ্যা প্রকাশ করেছিল প্রথম আলো। কিশোর আলোর পূর্বসূরী বলা চলে এই সংখ্যাটাকে। এটি ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বের হবে কিশোর আলো। সেই সংখ্যায় লিখেছিলেন প্রখ্যাত সব লেখকেরা। আসছে ১ অক্টোবর কিশোর আলোর ১৩তম জন্মদিন। জন্মদিনের আনন্দ পাঠকের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে নববর্ষ সংখ্যা থেকে ধারাবাহিকভাবে লেখা প্রকাশিত হবে শুধু কিশোর আলো অনলাইনে।
- বুঝলি, আমার খুব শখ, বড় হয়ে লম্বা জুলফি রাখব। কিন্তু তা বোধ হয় আর রাখা হবে না।
Visit extonnews.click for more information.
- কেন?
- কেন বুঝিস না? বিজ্ঞান স্যার পড়া না পারলে কানের জুলফি ধরে সব সময় টানে। টানতে টানতে কী অবস্থা করেছে দেখেছিস? বলে সোহেল তার জুলফি দেখায়।
- ঠিক তো, আমারও একই অবস্থা। স্বীকার করে শহিদও। সেও আফসোসের ভঙ্গিতে তার জুলফিতে হাত বুলায়।
পরে একে একে সবাই আবিষ্কার করল, সবারই একই অবস্থা। স্যার বইয়ের বাইরে এমন এমন সব পড়া ধরে যে কেউই পারে না। ফলে জুলফি ধরে মারো টান, হেইও।
- কী করা যায় বল তো?
- একটা বুদ্ধি আছে।
- কী বুদ্ধি?
- সুপার গ্লু।
- মানে?
বৃষ্টি- মানে স্যারের দুই আঙুলে সুপার গ্লু লাগিয়ে দিতে হবে। তাহলে স্যার আর টানা চার ঘণ্টার জন্য আঙুল খুলতে পারবেন না।
- হে... হে... গাধা! কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টাটা বাঁধবে কে শুনি? মানে স্যারের দুই আঙুলে সুপার গ্লু লাগাবে কে?
- সেই বুদ্ধিও আমি বের করেছি।
- কী?
সবাই আগ্রহ নিয়ে তাকায় মারুফের দিকে।
মারুফ মুচকি হাসে। মারুফ জানায়, তার বড়ভাই বিদেশ থেকে বিশেষ ধরনের একটা সুপার গ্লু এনেছে। সেটা এতই ভয়ংকর যে লোহা পর্যন্ত জোড়া লেগে যায় আর যদি সেটা চামড়ায় বা আঙুলে লাগে, তাহলে চার ঘণ্টার আগে খুলবে না।
- বলিস কী?
- হ্যাঁ মারাত্মক সুপার গ্লু।
- কিন্তু স্যারের দুই আঙুলে লাগাবি কীভাবে?
- খুব সোজা। স্যার তো ক্লাসে ঢুকেই এক গ্লাস পানি খায়। গ্লাসের গায়ে লাগিয়ে রাখব।
- ঠিক ঠিক, দারুণ বুদ্ধি। কবে করবি?
- কেন, আজ আমি নিয়েও এসেছি গ্লুটা। বলে সে পকেট থেকে সবুজ রঙের একটা ছোট্ট টিউব বের করে। সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে টিউবটার দিকে। টিউবটার ইংরেজিতে গায়ে লেখা—'SUPER SUPER GLUE'।
ক্লাস এইটের ফিফথ পিরিয়ড। বিজ্ঞান ক্লাস। সাগর স্যার ঢুকলেন ঢুকেই একটু অবাক হলেন তাঁর টেবিলে ঝকঝকে গ্লাসে পানি রেডি। তিনি মনে মনে খুশি হলেন আবার বিরক্তও হলেন। কারণ, ঢুকেই তিনি প্রতিদিন 'আমার পানি কই?' বলে একটা হুংকার দিতেন। তখন ক্যাপ্টেন ছুটে গিয়ে পানি নিয়ে আসত। ক্যাপ্টেনের এটা এক নম্বর ডিউটি। আজ আর সেটা দেওয়া গেল না। স্যার গ্লাস হাতে নিয়ে ঢকঢক করে পানি খেলেন। তারপর জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেন সবচেয়ে কোনায় বসা সাকিবের দিকে। হুংকার দিলেন 'স্ট্যান্ডআপ'।
ডিউক জনের চার মূর্তি সিরিজের গল্প—দুঃসহ দুপুরেসাকিব উঠে দাঁড়াল। অন্য দিন বুক ঢিব ঢিব করত, আজ সাকিবের মুখটা যেন হাসি হাসি।
- দুটো লৌহ শলাকাকে চুম্বকে কিছুক্ষণ ঘর্ষণ করার পর তারা কী রকম আচরণ করবে?
সাকিব উত্তরটা জানে, খুবই সহজ... কিন্তু বলল, 'স্যার, জানি না।'
- এদিকে আয়। তার মানে এখন দুই আঙুলে জুলফি টানা হবে। সাকিব হাসিমুখে এগিয়ে গেল, মাথাটা এগিয়ে দিল স্যারের দিকে জুলফি টানার জন্য। ক্লাসের সবাই মুখ চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে। স্যার হাত বাড়ালেন সাকিবের কানের দিকে... জুলফি ধরতে যাবেন দুই আঙুলে... কিন্তু এ কী? তিনি আশ্চর্য হয়ে আবিষ্কার করলেন তাঁর বুড়ো আঙুল আর তর্জনী একসঙ্গে আটকে আছে, তিনি খুলতে পারছেন না। এর মানে কী? তিনি হতভম্ব হয়ে প্রথমে সাকিবের দিকে তাকালেন... সাকিব হাসিমুখে বলল, 'স্যার, কোনো সমস্যা?' স্যার হতভম্ব হয়ে ক্লাসের অন্য সবার দিকে তাকালেন... দেখেন সবাই হাসি হাসি মুখে তাঁর দিকে তাকিয়ে। দু-একজন প্রাণপণে হাসি চাপার চেষ্টা করছে...!
ক্লাসের সবচে ফাজিল ছেলে মুকিত হাত তুলে দাঁড়িয়ে বলল, 'স্যার, দুটো লৌহ শলাকা চুম্বকে ঘর্ষণ করে পাশাপাশি আনলে আপনার দুই আঙুলের মতো পরস্পরকে আকর্ষণ করবে!' আর তখনই পুরো ক্লাস হো হো করে হেসে উঠল। সাগর স্যার হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর জুলফিতে চিকন ঘাম!
দুই দিন পরের ঘটনা। সাগর স্যারের দুই আঙুল খুলেছে। তবে তিনি হেডস্যারকে বলে ক্লাস এইটের বিজ্ঞান ক্লাসটা পরিবর্তন করে নিয়েছেন। এখন ক্লাস নেন আফরোজা ম্যাডাম। ম্যাডামটা খুব ভালো। এই খবর পেয়ে ক্লাস এইটের সবাই একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল 'হুররররে...!!'
(শেষ)মিসিং ফুটবল